সম্পাদকীয়

দায়ীদের বিচার হোক

# হামে শত শত শিশুর মৃত্যু #

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই কার্যক্রম শুরুর পর থেকে গত কয়েক দশক দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা ছিল খুবই কম। হাম যে এমন প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে, সেটিই মানুষ ভুলে গিয়েছিল। অথচ এ বছর হাম প্রায় মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। গতকালের দৈনিক প্রবাহ’তে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আরো ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মারা গেল ২৯৪ শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যা অনেক বেশি। সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়িতেই অনেক শিশুর মৃত্যু হয়। আবার ক্লিনিকে অনেকের মৃত্যু হয়, যারা এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয় না। হামে এভাবে শিশুমৃত্যুর জন্য বিশেষজ্ঞরা অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই মূলত দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, যথাসময়ে টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা না করা, সময়মতো রাজস্ব খাত থেকে টিকা কেনার বরাদ্দ নিশ্চিত না করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা না দেওয়াÑসর্বোপরি বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব না দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা যে অপেশাদারসুলভ আরচণ করেছেন, সেটিই এখন কাল হয়েছে। আর এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকেও বহন করতে হবে। হিউম্যানিটারিয়ান ইউনিটি উইথ মোরালিটি নামের একটি সংগঠন গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে হামে সন্তান হারানো অনেক মা-বাবাও অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং তাঁদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দেন, ‘হামে কেন মরল আমাদের সন্তান, জবাব দাও ইউনূস, জবাব দাও নূরজাহান’। মানববন্ধনে কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এমন পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট সারা দেশে অবিলম্বে হামের টিকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অতি সংক্রামক হাম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ, স্বেচ্ছাচারী ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। জাতীয় অধ্যাপক ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান ডা. এ কে আজাদ খান মনে করেন, শিশুরা হামে মারা যাচ্ছে, এর দায় সরকারের, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের। কারণ তারা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়নি। শত শত শিশুর করুণ মৃত্যু, তাদের মা-বাবার আর্তনাদ, হাজার হাজার শিশুর হাসপাতালে কাতরানোÑস্বাভাবিকভাবে দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। আমরা চাই পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button