কাঁধে ত্রাণের বস্তা নিয়ে মানুষের দ্বারে নাহিদ ও হাসনাত

প্রবাহ রিপোর্ট : ত্রাণের বস্তা কাঁধে নিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন নাহিদ ইসলাম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও কাদায় ডুবে থাকা পথ। যানবাহন পৌঁছানোর সুযোগ নেই এমন দুর্গম এলাকাও রয়েছে। এসব বাধা পেরিয়ে ত্রাণের বস্তা কাঁধে নিয়ে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
রবিবার (১২ জুলাই) থেকে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন তারা। চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে শুরু করে বাঁশখালীর ছনুয়া এবং সাতকানিয়ার এওচিয়াসহ দুর্গত জনপদে এনসিপির নেতাকর্মীদের নিয়ে তারা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেন এই দুই সংসদ সদস্য।
আনোয়ারা থেকে শুরু ত্রাণ কার্যক্রম : রবিবার (১২ জুলাই) আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। এরপর তাদের ত্রাণ কার্যক্রমের গন্তব্য ছিল বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার দুর্গত এলাকা।
ত্রাণ বিতরণকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে পানিবন্দি থেকে দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে দেশের সামর্থ্যবান মানুষ, ছাত্রসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাঁশখালীর দুর্গম জনপদে ত্রাণ : আনোয়ারার পর এনসিপির দলটি বাঁশখালীর ছনুয়াসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যায়। যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। বিভিন্ন স্থানে সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেন নেতাকর্মীরা।
বাঁশখালী সফরে স্থানীয় জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সংকটও সামনে আসে। নাহিদ ইসলাম স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা ও স্লুইসগেট নিয়ে অভিযোগ তুলে পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানান।
এরপর সাতকানিয়ার এওচিয়াসহ বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। দুর্গত মানুষের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরাও তাদের সঙ্গে কাজ করেন।
ত্রাণের বস্তা কাঁধে বাড়ি বাড়ি : ত্রাণ কার্যক্রমে শুধু নির্ধারিত স্থানে মানুষ জড়ো করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি এনসিপির নেতারা। দুর্গম ও পানিবন্দি এলাকায় ত্রাণের বস্তা কাঁধে বহন করে বাড়ি বাড়ি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টাও করেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে দুর্গত মানুষের কাছে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে দেখা গেছে।
‘মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, এখন পাশে দাঁড়াতে হবে’ : বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে কে পারছে বা কে পারছে না, শুধু সেই দোষারোপে আটকে থাকলে হবে না। মূল বাস্তবতা হলো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। তাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে সারা দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। দীর্ঘ সময় পানিবন্দি থাকায় অনেক পরিবার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ত্রাণের পাশাপাশি কারণ অনুসন্ধানের দাবি : দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় নাহিদ ইসলাম বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার পেছনের কারণ নিয়েও কথা বলেন। আনোয়ারায় তিনি পানি নিষ্কাশন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বাঁশখালীতেও স্লুইসগেট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করেন।



