কড়া নজরদারি নিশ্চিত করুন

# অবৈধ ও নকল পণ্যে বাজার সয়লাব #
দেশের বাজারের প্রকৃত চিত্র হলো, নকল ও অবৈধ পণ্যের ভিড়ে আসল পণ্য খোঁজে পাওয়া কঠিন। বেশির ভাগ পণ্যই ভেজাল। এমনকি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মানও ঠিক নেই, নকল ওষুধে বাজার সয়লাব। এতে বিপুলসংখ্যক ভোক্তাসমাজ যেমন প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে, একই সঙ্গে সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। আবার প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই অবৈধ তৎপরতার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা মুনাফা বাগিয়ে নিলেও একই পণ্য উৎপাদন করে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। জানা গেছে, গ্রাম পর্যায়ে নকল পণ্যের দাপট বেশি। ওষুধশিল্প সমিতির নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, দেশে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ভেজাল ওষুধ বাজারে রয়েছে। গ্রামে নকল ওষুধ বিস্তারের অন্যতম কারণ হলো দাম। স্বীকৃত কম্পানির ওষুধের তুলনায় নকল ওষুধ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ সেগুলোই কেনে। শুধু ওষুধ নয়, অন্যান্য পণ্যের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। বৈঠকে ভেজাল ও নকল পণ্যের দৌরাত্ম্য নিয়ে অনেকেই বলেন, কড়া নজরদারির যেমন অভাব রয়েছে, রয়েছে আইনের দুর্বলতাও। শাস্তি হিসেবে অল্প জরিমানা করা হয়। এতে দেখা যায়, ভেজাল কারবারিরা বরং নতুন কৌশলে নিজের তৎপরতা জারি রাখেন। রয়েছে ভোক্তাসমাজের অসচেতনতাও। বৈঠকের প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘মানুষ যখন প্রকৃত নাগরিক হয়ে উঠবে, তখনই সে বৈধ-অবৈধকে চ্যালেঞ্জ করবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তখনই আইন প্রয়োগে বাধ্য হবে।’ এ ছাড়া বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্বারোপ করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ উদ্দীন। খোদ ভোক্তা অধিদপ্তরের রয়েছে বড় দুর্বলতা। পণ্য আসল নাকি নকল, তা শনাক্ত করার নিজস্ব ল্যাব পর্যন্ত তাদের নেই। দেখা যাচ্ছে, নকল ও অবৈধ পণ্য বিস্তারের কারণ একটি নয়, অনেক। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, পরিস্থিতি উত্তরণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আমরাও মনে করি, কড়া নজরদারি ও সঠিক আইন প্রয়োগের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি করা সম্ভব।
