স্থানীয় সংবাদ

অভিযোগের সত্যতা নেই, তবু অব্যাহত হয়রানি : প্রতিকার দাবি ভুক্তভোগীদের

# ডুমুরিয়ার পাচুড়িয়া গ্রাম #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার ডুমুরিয়ার পাচুড়িয়া গ্রামে একটি পরিবারের বিরুদ্ধে অন্য প্রতিবেশিদেরকে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলায় হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তে তাদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলেও গায়ের জোরে দখলবাজিসহ অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জুলুমের প্রতিকার ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। লিখিত বক্তব্যে খর্ণিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হোসেন সরদার অভিযোগ করেন, পাচুড়িয়া গ্রামের সুকেশ রক্ষিতের ছেলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও ইসকন সদস্য তপু রক্ষিত সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাধারণ গ্রামবাসীর চরিত্র হনন করেছেন। প্রকৃত সত্য হলো, ১৯৭৫ সালে সুকেশ রক্ষিতের দাদু সুধির রক্ষিতের কাছ থেকে রহমত আলী সরদার ও খোরশেদ আলী সরদার ২৭ শতক জমি কেনেন। জমি ক্রয়ের দলিল থাকলেও বিক্রেতার ত্রুটির কারণে মিউটেশন না হওয়ায় এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। ২০০১ সালে চরমপন্থী নেতা মৃণালের আবির্ভাব ঘটলে সুকেশ ও সুকৃতি দুই ভাই নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং ভুক্তভোগীদের জিডির কপি রয়েছে। জেলা গোয়েন্দা রিপোর্টেও তাদের চরমপন্থী সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এলে পুনরায় এই পরিবারটি মন্ত্রী নারায়ন বাবুর ঘনিষ্ট পরিচয়ে এলাকায় দাপুটে হয়ে ওঠে। মিথ্যা লুটপাটের মামলা দায়ের করে পুলিশ দিয়ে বিরোধী মতের লোকজনকে হয়রানি অব্যাহত রাখে। স্থানীয় শাহজাহান সরদারের স্ত্রী শিউলী বেগম ও কালাম সরদারের নিকট ১৪ শতক সম্পত্তি বিক্রির জন্য স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র করে। তাদের কাছ থেকে নগদ সাড়ে ১৭ হাজার টাকা নিলেও আজ পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। অপু রক্ষিতের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেন। উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর ও খর্ণিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো: মুনির হোসেন দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে তাদের সবগুলো অভিযোগ ভুয়া প্রমাণিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় স্থানীয় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার, এসপির তদন্ত টিম, পিবিআই তদন্ত টিম, বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা, জেলা হিন্দু ফ্রন্টের নেতা ও স্থানীয় প্রশাসন সরেজমিনে গিয়েও অভিযোগের সত্যতা পায়নি। বরং তদন্তে প্রমাণ হয়েছে, তারা সরকারি রাস্তার জমি জবর দখলে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, তাদের ওয়ারেশকায়েম সনদটিও জাল। সুকেশ-সুকৃতির পরদাদা যোগেন্দ্র রক্ষিতের পাঁচ পুত্রের স্থলে সুকেশ রক্ষিত এক পুত্র পরিচয় দিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। অপর একটি ভুয়া ওয়ারেশকায়েমে দুই পুত্র দেখিয়ে আরও সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছে। গ্রামীণ সেচ প্রকল্পের আওতায় বিএডিসি থেকে ২৫ টি পরিবারের জন্য পানির ট্যাংকসহ আনুসাঙ্গিক উপকরণ দেওয়া হয়। যা অন্য কাউকে না দিয়ে তারা একাই ভোগ করেন। ৫ আগস্টের পর গ্রামবাসী তাদের এই সব অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে। আবুল হোসের সরদার দাব্ি করেন, তিনি জিয়াউর রহমানের জাগো দল থেকে অদ্যাবধি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। কঠিন দু:সময়েও কখনো দল ত্যাগ করেননি কিংবা আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করেননি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহিদুল ইসলাম শহিদ, শাহজাহান সরদার, আবুল কাশেম সরদার, আব্দুল কুদ্দুস সরদার, জিয়ার বিশ^াস, মন্টু সরদার, বলু শেখ, কামরুল ইসলাম সরদার প্রমুখ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button