সম্পাদকীয়

ক্যাপাসিটি চার্জের খেসারত কতকাল দেবে জনগণ?

# এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হবে #

দেশের বিদ্যুৎ খাতে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, যার বড় খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। একদিকে তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ; অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই কেবল চুক্তি রক্ষায় হাজার হাজার কোটি টাকা পকেটে ভরছেন রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা। এই আত্মঘাতী নীতি দেশের অর্থনীতিকে শুধু পঙ্গুই করছে না, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে মুষ্টিমেয় কিছু প্রভাবশালীকে সুবিধা দেওয়ার এক প্রাতিষ্ঠানিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার প্রয়োজন ছাড়াই বেসরকারি খাতে ৩০০ মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর চুক্তি করে। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০৩৩ সালে। এ মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় সহজে কমবে না। কারণ ওই কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। ক্যাপাসিটি চার্জের মূল ধারণাটি ছিল-বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখার জন্য সরকারকে একটি ন্যূনতম ব্যয় পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ নীতি অগ্রাহ্য করে বছরের পর বছর বসিয়ে রেখে কেন্দ্রগুলোকে বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল ভর্তুকির চাপ সামলাতে গিয়ে বারবার বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম। এর সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন দেশের সাধারণ ক্রেতা, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ খাতের এ ভুল নীতির কারণে আগামী বছর সরকারের ৬৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে। বিদ্যুৎ খাতের এই ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুচিন্তিত ও পরিকল্পিতভাবে এ খাতকে অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের উচিত হবে সব রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন করা এবং ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় অপচয়ের এই মহোৎসব বন্ধ করে বিদ্যুৎ খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা অদূর ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button