ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করুন

# বাড়ছে বন্যা ও নদীভাঙন #
ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১০ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নিম্নাঞ্চলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এদিকে বরিশালেও প্রবল বৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কীর্তনখোলা, তেঁতুলিয়া, মেঘনা ও বিষখালীসহ বিভাগের বেশ কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় বইছিল। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল। কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেট জেলার ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা নদীর পানি সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। অনেক স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও ব্রিজ ভেঙে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিভাগে নদীতীরবর্তী প্রায় ১৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় তারা জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে ১০২ কিলোমিটার বাঁধ। অন্যদিকে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ১৪ হাজার ৯৩২ হেক্টর জমির ফসল। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি ও পেঁপেরও ক্ষতি হচ্ছে।
বন্যা উপদ্রুত এলাকার মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এখন চোখে রীতিমতো অন্ধকার দেখছে। ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে।
