জলাতঙ্কে মৃত্যু বেড়েছে : চাই সচেতন উদ্যোগ

সময়মতো জলাতঙ্ক রোগের টিকা নিলে জীবন বাঁচে, কিন্তু লক্ষণ প্রকাশ পেলেই এই রোগ প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। দেশে গত তিন বছরে জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর অন্যতম কারণ হলো টিকার সংকট। বলা যায়, জলাতঙ্ক রোগের টিকার সংকট একটা নমুনা মাত্র, আমাদের স্বাস্থ্য খাত এমন হাজারো সংকটে জর্জরিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) এ তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু হয় ৪২ জনের। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ৫৯ জন। অর্থাৎ তিন বছরে মৃত্যু বেড়েছে ৪০.৪৮ শতাংশ। জানা যায়, বছরে আনুমানিক ৬০ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া প্রাণীর কামড়ের শিকার রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। গত তিন বছরে ঢাকার মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষ প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশই বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর জলাতঙ্কে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ মারা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের ৯৯ শতাংশই কুকুরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কুকুরের অন্তত ৭০ শতাংশকে নিয়মিত টিকা দেওয়া গেলে সংক্রমণের চক্র ভাঙা সম্ভব। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল পালিত হয়েছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো, ‘একসঙ্গে থাকলেই আমরা আরো শক্তিশালী’Ñবিষয়টি আমাদের দেশের জন্য সময়োপযোগী বার্তাই বটে। এ ছাড়া আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা, প্রাণীর টিকাদান, রোগ নজরদারি, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করাই দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন মানুষকে টিকা দিলেই জলাতঙ্কের ঝুঁকি পুরোপুরি কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি কুকুর-বিড়ালের টিকাদান, বেওয়ারিশ প্রাণীর ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসাÑএই তিনটি কার্যক্রম একসঙ্গে জোরদার করা প্রয়োজন। এদিকে বিশ্বব্যাপী ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, জলাতঙ্কের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য জনসাধারণের সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন। প্রাণীর কামড়ের পর সহজে যেন প্রতিষেধক পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হোকÑএটাই কাম্য।
