সম্পাদকীয়

কৃষকের অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার টাকা : অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে কৃষকের দুর্দশার শেষ নেই। কৃষকের ঘামে ফলানো ফসলের দাম বাড়লেও কৃষকের জীবনমান আজও বাড়েনি। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই দুই মাসের মাথায় কৃষক কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করে, যা পর্যবেক্ষকমহলে প্রশংসিত হয়। এরপর আজ ১ অক্টোবর শুরু হচ্ছে বড় পরিসরে সেই কৃষক কার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। ফেনীর ফুলগাজী থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা আশা করছি, এর মধ্য দিয়ে দেশের কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। গতকাল দেশে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, প্রথম ধাপে দেশের ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলার এক লাখ কৃষক এই কার্ড পাবেন। পর্যায়ক্রমে এই পরিসর বাড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কৃষকরা বছরে একবার দুই হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনা পাবেন। তবে এই অর্থ শুধু কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ সার, বীজ, কীটনাশকসহ নির্ধারিত কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে কার্ডটি ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকরা; এ ছাড়া অন্যান্য কাজে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে না। কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, ১ অক্টোবরের কর্মসূচি সামনে রেখে প্রায় এক লাখ কৃষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আজ ফেনী জেলার কৃষকদের মধ্যে সাত হাজার ৬৪৬ জনকে প্রথম ধাপে কার্ড দেওয়া হবে। খবরে বলা হয়েছে, কৃষক বাছাইয়ে যাতে অনিয়ম না হয়, সেই দিকটি খেয়াল রাখা হয়েছে। জানা গেছে, কৃষক কার্ড চালুর পেছনে শুধু প্রণোদনা দেওয়াই উদ্দেশ্য নয়; দীর্ঘ মেয়াদে দেশের প্রকৃত কৃষকের একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ডেটা বেইস তৈরি করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। কৃষক সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য থাকলে উৎপাদন পরিকল্পনা, সার-বীজ বিতরণ, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষি বীমা এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা আরো লক্ষ্যভিত্তিকভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, দেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে আমাদের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে হবে। কৃষকদের পেছনে ফেলে কখনোই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য দেশের কৃষিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে কৃষক কার্ড একটি অনুসরণীয় পদক্ষেপ বলেই আমরা মনে করি। কৃষক কার্ডের সেবার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি প্রণোদনার অর্থ বাড়ানোর বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা প্রয়োজন। মাঠ পর্যায়ে যেন কোনো অনিয়ম না হয় তার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি সুজলা-সুফলা বাংলার কৃষকের মুখে হাসি ফুটুকÑএটাই প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button