‘সাইবার পুলিশ ইউনিটের’ যাত্রা শুরু : সময়োপযোগী পদক্ষেপ

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রযুক্তি ঘিরে অপরাধের মাত্রাও। দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সব কিছু এখন প্রযুক্তিনির্ভর। আর একদল অপরাধী সেই প্রযুক্তিকেই বানিয়েছে তাদের হাতিয়ার। বাস্তবিক কারণেই বহুদিন থেকেই দেশে একটি পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিটের বড় অভাব ছিলÑএবার তা পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’-এর উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ইউনিটটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। জনবল থাকছে চার হাজার ৫৯২ জন। বিশেষায়িত পদে চুক্তিভিত্তিক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞও নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রী জানান, প্রথাগত পুলিশিং কাঠামোর বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি দক্ষতা নিশ্চিত করতে ইউনিটটিতে আউটসোর্সিং ও চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যানশিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পদে চুক্তিভিত্তিক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। ব্যবহারকারীরা অজান্তেই নিজেদের তথ্য অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এরপর সেই তথ্য দিয়েই অনেকে আবার জিম্মি করা হচ্ছে। শুধু কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম? বড় বড় প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরও সাইবার হামলার টার্গেটের বাইরে নয়। দিন যত যাচ্ছে, অপরাধীরা আর নিত্যনতুন কৌশল রপ্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ সময়ের অপরিহার্য চাহিদাই বটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের পাশাপাশি এটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। বিশ্ব মানের ফরেনসিক ল্যাব, আধুনিক ট্র্যাকিং টুলস এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা, বিশেষ করে নারীরা সামাজিক কারণে বা গোপনীয়তা ফাঁসের ভয়ে অভিযোগ জানাতে ইতস্তত করেন। সাইবার পুলিশ ইউনিটকে ভুক্তভোগীদের তথ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমরা আশা করি, সাইবার পুলিশ ইউনিট প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক জীবনকে আরো নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত করবে। পাশাপাশি দক্ষ পরিচালনা ও পেশাদারির মাধ্যমে এই ইউনিটের সেবার মান সময়োপযোগী।
