শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সমস্যার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন

আমাদের দেশ জনবহুল। এখানে শ্রমশক্তিই বড় চালিকাশক্তি। কিন্তু আমাদের দেশে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবার দিকটি বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে। সীমিত আয়ের কারণে নিজেরা এ বিষয়ে সচেষ্ট নন, আবার প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও এ নিয়ে উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এতে যে শ্রমিক বেশি মেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারতেন, কিন্তু কর্মক্ষমতা হারিয়ে সেই শ্রমিক আগেই অচল হয়ে পড়ছেন। সর্বোপরি বাস্তবতা হলো, স্বাস্থ্য পরিচর্যার অভাবে বেশির ভাগ শ্রমিক অনিশ্চয়তা ও সীমাহীন কষ্টের মধ্যে আছেন। ৬০ শতাংশ চালকই জানেন না তাঁদের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা দেখা গেছে দেশের ১৯টি জেলায় ৩১ হাজার ৫৩৫ জন যানবাহনচালকের চোখ পরীক্ষা করে। সম্প্রতি একটি সেবা সংস্থার উদ্যোগে বিশেষ হেলথ ক্যাম্প পরিচালিত হলে এই বাস্তবতা উঠে আসে। চোখ পরীক্ষা করার পর প্রায় ৭৬ শতাংশ চালককে চশমা দিতে হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রথমবারের মতো চশমা ব্যবহার করছেন। ধুলার মধ্যে কাজ করা শ্রমিকদের করুণ দশা ঃ লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাথরভাঙার কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের বেশির ভাগই ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত। তাঁদেরই একজন ৩৩ বছর বয়সী ওবাইদ। তাঁর কাছ থেকে শোনা যায়, একসঙ্গে ১৭ জন কাজ করতেন, তাঁদের মধ্যে ১৬ জনই মারা গেছেন। গত পাঁচ বছরে তিন ধরনের শিল্প শ্রমিকের ওপর পরিচালিত পৃথক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, পাথরকাটা শ্রমিকদের ৮৯ শতাংশের অন্তত একটি দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ রয়েছে। চালকলের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই হার ৫২.৩ শতাংশ। তুলার ধুলার সংস্পর্শে থাকা শ্রমিকদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সূচকও তুলনামূলক দলের চেয়ে কম পাওয়া গেছে। বক্ষব্যাধি, হাঁপানি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুস শাকুর খান বলেন, ‘পাথরভাঙা ও সিমেন্ট কারখানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পে সূক্ষ্ম ধূলিকণা শ্রমিকদের ফুসফুসে প্রবেশ করে সিলিকোসিস ও অন্যান্য পেশাগত ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এতে যক্ষ্মা ও অন্যান্য ফুসফুসের সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়তে পারে।’ আমরা মনে করি, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা অপরিহার্য। এটি শ্রমিকদের অধিকারও। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কার্যকর মাস্ক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর যৌথ দায়িত্ব রয়েছেÑএই দায় কেউ এড়াতে পারে না।
