গুচ্ছ ভর্তির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ : শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা জরুরি

উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় মিলে এক দিনে পরীক্ষার আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা গুচ্ছ ভর্তি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গতকাল দেশের কয়েকটি পত্রিকার খবরে বলা হয়, একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনীহা, বড় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই বাইরে থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে গুচ্ছের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উচ্চশিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের চূড়ান্ত পর্ব। এই ধাপ বিপর্যস্ত হলে শুধু শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে এর প্রভাব দেশের ওপরও পড়ে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এত দিনেও উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতির মধ্যে আনা যায়নি। এইচএসসি পাসের পর একজন শিক্ষার্থী উদ্বিগ্ন থাকেন, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগে পাবেন তো? ভর্তিযুদ্ধ মোকাবেলায় প্রস্তুতির পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, দেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, নিরাপদে যাতায়াত করা সম্ভব হবে তো? এমন বাস্তবতায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতির যাত্রা শুরু হয়। পরের শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২টিতে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এই গুচ্ছের আওতায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে এর পর থেকেই গুচ্ছে ভাঙন শুরু হয়। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় বেরিয়ে যাওয়ায় গুচ্ছের পরিধি আবার সংকুচিত হয়। এ ছাড়া আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিভাবকমহল ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, গুচ্ছ না থাকার কারণে অনেক ভোগান্তি ও অর্থ ব্যয় হয়। গুচ্ছের বাইরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষা এবং গুচ্ছের পরীক্ষার তারিখ কাছাকাছি হলে অনেক সময় সব পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও সম্ভব হয় না। এদিকে গত জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারের মধ্যে আনার জন্য ইউজিসিকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, সেই বৈঠকের কোনো অগ্রগতি গত তিন মাসেও দেখা যায়নি। আমরাও মনে করি, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষায় একটি সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সদিচ্ছা কাম্য। আশা করি, সরকার ও ইউজিসি বিষয়টি পরীক্ষার্থীবান্ধব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবে।
