বিনোদন

নাঈমের আপত্তিতে নায়িকা হওয়ার জেদ চেপেছিল শাবনাজের!

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ঢাকাই সিনেমার নব্বই দশকের জনপ্রিয় জুটি নাঈম ও শাবনাজ। পর্দায় প্রেমের গল্পে দর্শকের মন জয় করতে গিয়ে বাস্তব জীবনেও একে অপরের জীবনসঙ্গী হয়েছেন তারা। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর ভালোবেসে বিয়ে করেন এই তারকা দম্পতি। দেখতে দেখতে তাদের দাম্পত্যজীবনের ৩২ বছর পূর্ণ হয়েছে। দেশীয় শোবিজে যখন একের পর এক তারকা দম্পতির বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে, তখন দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় সংসার করে দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন নাঈম-শাবনাজ। দুই কন্যার বাবা-মা তারা। বড় মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন এই দম্পতি। তবে তাদের প্রেমের গল্পের শুরুটা ছিল সিনেমার সেটে। ‘বিষের বাঁশি’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে একে অপরের কাছাকাছি আসেন নাঈম ও শাবনাজ। পরে ‘লাভ’ সিনেমায় তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। এর আগে দুজনের অভিষেক হয়েছিল ‘চাঁদনী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। সিনেমাটি পরিচালনা করেন এহতেশাম। কিন্তু ‘চাঁদনী’র নায়িকা হওয়ার পথটা শাবনাজের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। শুরুতে তাকে নায়িকা হিসেবে মেনে নিতে চাননি নাঈম নিজেই। আর সেই আপত্তিই শাবনাজের মনে জেদ তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জেদ থেকেই নায়িকা হওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শাবনাজ জানান, তাকে নায়িকা করার সিদ্ধান্তের কথা শুনে নির্মাতা এহতেশামকে আপত্তি জানিয়েছিলেন নাঈম। শাবনাজের ভাষায়, ‘‘আমাকে যখন নায়িকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তখন নির্মাতা এহতেশাম সাহেবকে নাঈম বলেছিলেন, ‘না, না, এই মেয়েকে কোনোভাবেই নায়িকা করা যাবে না। তার সঙ্গে অভিনয় করব না।” নাঈমের সেই আপত্তির কারণও পরে জানতে পারেন শাবনাজ। তিনি বলেন, ‘ও বলেছিল আমি নাকি শুকনো, মাথায় চিটচিটে তেল দেওয়া আর গোল চশমা পরা একটি কিম্ভূতকিমাকার মেয়ে। আমার মতো এমন মেয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই জুটি বাঁধবে না ও। এ কথাটি পরে এহতেশাম সাহেবের কাছ থেকে শুনে আমার মধ্যে প্রচ- জেদ চেপে যায়। আমি বললাম- দেখি ও কীভাবে আমাকে নায়িকা হতে না দেয়। আমি নায়িকা হয়েই ছাড়ব। শেষ পর্যন্ত আমিই জয়ী হলাম।’ শাবনাজ আরও জানান, একটি গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে তাকে প্রথম দেখেন নির্মাতা এহতেশাম। তার সঙ্গে শাবনাজের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখে শাবনাজকে ‘চাঁদনী’ সিনেমার নায়িকা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এ জন্য শাবনাজের বাবার সঙ্গে কথা বলেন নির্মাতা। শাবনাজের বাবা মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করানোর প্রস্তাবে তিনি আপত্তি করেননি। যদিও পরিবারের দাদা-দাদি চাইছিলেন না শাবনাজ অভিনয়ে আসুন। তবে বাবার সমর্থনেই চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় তার। সেই স্মৃতি তুলে ধরে শাবনাজ বলেন, ‘ভিডিওতে আমাকে দেখে বাবাকে তিনি বললেন আমাকে “চাঁদনী” সিনেমার নায়িকা করতে চান। বাবা যেহেতু মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই তিনি না করলেন না। যদিও দাদা-দাদি চাননি, কিন্তু বাবা বললেন, আমি যদি এ অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারি, আমার মেয়ে কেন নয়। ব্যস, বাবার উৎসাহে “চাঁদনী” হয়ে গেলাম।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button