আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আইসিসি কৌঁসুলিকে অপসারণ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি করিম খানকে ‘যৌন অসদাচরণের’ অভিযোগে অপসারণ করা হয়েছে। করিম খানের আইনি দল তাকে সরানোর এই পদক্ষেপটিকে রাজনৈতিক বলছে। জাতিসংঘের তদন্তে ‘যৌন অসদাচরণের’ অভিযোগ প্রমাণ না হলেও করিম খানকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে সদস্যদেশগুলোর পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ’। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এই ভোটাভুটি হয়। আইসিসি শুক্রবার জানিয়েছে, এখন থেকে উপ-কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান এবং মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং যৌথভাবে করিম খানের কার্যালয়ের নেতৃত্ব দেবেন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর আইসিসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন করিম খান এবং আইসিসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে তার অপসারণের ফলে ২০২৪ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু এবং গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলোর ওপর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না, কারণ এই পরোয়ানাগুলো কেবল আইসিসির বিচারকরাই প্রত্যাহার করতে পারেন। করিম খানের আইনি দলের প্রধান তায়েব আলী বলেন, জাতিসংঘের ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেস অফিসের (জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিষেবা দপ্তর) তদন্তের ফলাফল ‘সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর অধীনে করিম খানের কোনো অসদাচরণ বা দায়িত্ব লঙ্ঘন প্রমাণ করে না’Ñএটি একটি বিচারিক প্যানেল ‘সর্বসম্মতভাবে’ নির্ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য রয়েছে যা খানের ব্যক্তিগত মামলার গ-ি ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা নির্ভর করে এর নির্বাচিত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক, কার্যপ্রণালীর দিক থেকে অন্যায্য বা স্বাধীন বিচারিক সংস্থার ফলাফলের সঙ্গে অসংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণের হাত থেকে সুরক্ষার ওপর। আইনজীবী তায়েব আলী বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এবং আদালত যখন প্রচ- রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে ‘একটি নির্বাহী ভোটের মাধ্যমে’ করিম খানকে অপসারণ করা হয়েছে। অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে তারা এই বিষয়ে একমাত্র বিচারিক সিদ্ধান্তের ফলাফলকে অনুসরণ করে না। তায়েব আলী আরও বলেন, করিম খানকে এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে যেখানে তাকে নিজের কথা বলার জন্য কখনই ন্যায়সংগত সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং পূর্ণাঙ্গ প্রমাণের রেকর্ড পরীক্ষা করা স্বাধীন বিচারকদের উপসংহারকে উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী ব্যক্তিদের বিচার করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button