ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্পের জামাতা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল সফরে যেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস কুশনারের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী সপ্তাহে মিসরের রাজধানী কায়রোতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন তিনি। রয়টার্সকে ওই সূত্র জানায়, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতৈক্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের কিছু উদ্বেগ রয়েছে, যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ‘যৌক্তিক’ বলে মনে করছে। এসব উদ্বেগ দূর করতে দুই দেশ কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা ঃ কুশনারের সম্ভাব্য ইসরায়েল সফরের প্রধান লক্ষ্য হবে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব করা ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করা। ট্রাম্প ২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজার জন্য এই পরিকল্পনা সামনে আনেন। পরে জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনি জানান, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনী কাজ করবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, তারা পরিকল্পনাটিতে সম্মত হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইসরায়েল আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে কি না, তার ওপর। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজায় হামলা বন্ধের বিষয় রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও চলছে হামলা ঃ গত অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, একই সময়ে হামাসসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। হামাস সাধারণত তাদের যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না। কুশনারের সম্ভাব্য ইসরায়েল সফর এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাক্সিওস ও আরব নিউজ।



