যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় ইরান

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের দেওয়া সাত দিনের রূপরেখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান জানার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সাত দিনের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান চুক্তি করতে চাইছে, কারণ দেশটি ‘ধ্বংসের মুখে’ এবং তাদের অর্থ আসছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরাকচি বলেন, তেহরান এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত অবস্থান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে তার এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানার পর সেটির ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরান। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শর্তও স্পষ্ট বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এসব শর্ত পূরণ হলেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রসর হবে ইরান। তিনি বলেন, অচলাবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার একমাত্র পথ হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা-এটাই ইরানের অবস্থান। এর আগে আরাকচি জানিয়েছিলেন, সাত দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনে প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। ইরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, ইরানের জব্দ করা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সম্পদ ছাড় এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির বিষয় রয়েছে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে তেহরান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান গত ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছিল। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।



