খালিশপুরে কুকুরের মাংস দিয়ে তৈরি হয় বিরিয়ানি!

দেড় মাস ধরে বিক্রি করছে কুকুরের মাংস, ক্রেতাসহ গ্রেফতার চার, ঘটনাস্থল থেকে ৭টি কুকুরের পুরাতন মাথা উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর খালিশপুরে কুকুর জবাই করে তার মাংস গরু বা খাসি বলে চালিয়ে দিয়ে অর্থ উপার্জন করে আসছিল একটি চক্র। আর কুকুরের সেই মাংস দিয়ে বিভিন্ন হোটেল রেঁস্তোরায় তৈরি হচ্ছিল বিরিয়ানি, বার্গার, গ্রিলসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। গত দেড় মাস ধরে এ চক্রটি কুকুরের মাংস খাসির মাংস বলে বিক্রি করে আসছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুরাতন সাতটি কুকুরের মাথার খুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এমনই একটি চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বুধবার বিকেল নগরীর খালিশপুরস্থ খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মধ্যে পরিত্যক্ত ভবন থেকে জবাই করা কুকুরসহ তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, সম্প্রতি নগরীতে ইজিবাইকে করে খালিশপুর এলাকার জনৈক আবু সাঈদ ৩০ টাকা প্যাকেট মূল্যে নগরীতে ভ্রাম্যমাণ বিরিয়ানি বিক্রি করছিল। মূলত: তার সূত্র ধরেই কুকুরের মাংস বিক্রি চক্রকে আটক করা হয়েছে। সঙ্গে বিরিয়ানি বিক্রেতা আবু সাঈদকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, খুলনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরের একটি পরিত্যক্ত ভবনে দীর্ঘদিন যাবত কুকুর জবাই করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে খালিশপুর থানা পুলিশ জবাই করা কুকুরসহ হাতেনাতে চারজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো খালিশপুরস্থ ডলার হাউজ মোড় এলাকার লিংকন হাওলাদারের ছেলে অস্টম শ্রেণীর ছাত্র তাজ (১৬), খালিশপুর বঙ্গবাসী মোড় এলাকার নর্থ জোন -২৩ এর হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ আবু সাইদ (৩৭), ২নং নেভিগেট এলাকার কুতুব আলীর ছেলে মোঃ সিয়াম (১৬), চরের হাট এলাকার শোভন সরদারের ছেলে প্রেম সরদার (১৬) এবং কুকুরের মাংসের ক্রেতা ও ভ্রাম্যমাণ বিরিয়ানি বিক্রেতা আবু সাঈদ। তবে ঘটনার সাথে জড়িত আরমান ও উৎসসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছে। কেসিসির ভেটেরিনারি বিভাগের ফুড এন্ড সেনেটারি ইন্সপেক্টর মেহেদি হাসান বুলবুল জানান, বিকেলে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন পলিটেকনিক কলেজ চত্বরে পুলিশসহ বহু মানুষের জটলা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জবাইকৃত একটি কুকুর উদ্ধার করা হয়। পরে আটককৃতরা পুলিশকে ঘটনাস্থল থেকে কলেজ ক্যাম্পসের আরো ভিতরে একটি পরিত্যক্তভবনে নিয়ে যায়। এখান থেকে সাতটি কুকুরের মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়। ওই রুমে তারা কুকুর জবাই করে চামড়া ছড়াতো এবং মাংস কাটতো। পরে সুযোগমত তা সাইদের নিকট সাপ্লাই দিত। পরিত্যক্ত ওই রুমটি থেকে এতই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল যে, নাক চেপেও তার পাশে দাঁড়ানো যাচ্ছিল না। এ মাংসের কেজি তারা চার থেকে ৫শত টাকা করে বিক্রি করতো। আটককৃতরা কিশোর হওয়ায় আইন প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা সাবধনতা অবলম্বন করেন। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তেরখাদা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রিয়ংকা কুন্ডু উপস্থিত ছিলেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, খালিশপুর থেকে দু’জন পুলিশ কর্মকর্তার ফোন পেয়ে তাদের টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সে মতে, তারা অভিযানে যায়। ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, রাত ১০টা নাগাদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রাণী কল্যাণ আইনের ২০১৯-এর ৭ ধারা মোতাবেক আটককৃতদের আদালতে প্রেরণের আদেশ দেন। শুনানী শেষে আদালত যে সিদ্ধান্ত দিবে পুলিশ সে মতে কাজ করবে। একই সাথে উদ্ধারকৃত কুকুরটি কেসিসির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আটককৃত চারজনের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, এরা গত দেড় মাস যাবৎ এ মাংস বিক্রি করে আসছিল ৪শ’ টাকা করে কেজি। ভ্রাম্যমান বিরানী বিক্রেতা আবু সাঈদের নিকট তারা এ মাংস বিক্রি করে আসছিল। আটককৃতরা এ ঘটনার সাথে আরো চারজন জড়িত আছে বলে নাম বলেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানান।



