ঝিকরগাছায় বন্ধুর হাতে তৌফিক খুনের ২৪ ঘন্টায় খুনি গ্রেফতার

যশোর ব্যুরো ঃ গত ২০ জানুয়ারী প্রকাশ্যে যশোরের ঝিকরগাছা থানাধীন বন্ধুর ছুরিকাঘাতে তৌফিক (২১) খুনের সাথে জড়িত বন্ধু বাবু ওরফে ক্যাসেট বাবুকে হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভোলা থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই যশোর ব্যুরোর একটি চৌকস টিম। বাবু মোড়ল @ কেসমত @ ক্যাসেট যশোরের ঝিকরগাছা থানার কাটাখাল জামতলা মোড় আফিল রোড এলাকার মৃত কাশেম মোড়লের ছেলে। আটক ক্যাসেট বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পিবিআই কর্মকর্তাকে জানায়, গত ২০ জানুয়ারী সকাল অনুমান ৭ টার সময় তৌফিক কে বাবু @ ক্যাসেট বাবু তার নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে চাকু দিয়ে হত্যা করে। তৌফিক ও ক্যাসেট বাবু দু’জনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বন্ধুত্বের সূত্র ধরে তৌফিক ক্যাসেট বাবুর বাড়ীতে অবাধ যাতায়াত করত। একপর্যায়ে তৌফিকের সাথে ক্যাসেট বাবুর স্ত্রী তথা রিয়া খাতুনের ঘনিষ্ট সর্ম্পক হয়। সম্পর্কের বিষয়টি ক্যাসেট বাবু জানতে পারে এবং সে সন্দেহ করে তৌফিকের সাথে তার স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক আছে। উক্ত বিষয় নিয়ে তাদের দু’জন স্বামীস্তীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। তখন ক্যাসেট বাবু তৌফিক’কে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার দিন ক্যাসেট বাবু মিমাংসার কথা বলে কৌশলে তৌফিককে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। তৌফিস বাবুর বাড়িতে যাওয়ার পর রিয়ার সাথে তৌফিকের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে বাবু ও তৌফিকের মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক বাবু তার ঘরে থাকা চাকু দিয়ে তৌফিকের পেটে আঘাত করলে তার পেট থেকে নাড়ী, ভুড়ি বের হয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। তখন বাবুর স্ত্রী রিয়া তৌফিকের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিকরগাছা, যশোর নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌফিকের অবস্থায় অবনতি দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল যশোরে রের্ফাড করে। তৌফিককে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল যশোরে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা নিরিক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত বিষয়টি পিবিআই যশোর অবগত হয়ে পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন এর নেতৃত্ত্বে পুলিশ পরিদর্শক তৈয়বুর রহমান ,এসআই ¯েœহাশিস দাশ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ যশোর জেলার আভিযানিক দল কর্তৃক গত ২১ জানুয়ারী রোববার সকাল ৯ টার সময় ভোলা জেলার দৌলতখান থানাধীন দক্ষিণ জয়নগর গ্রামস্থ তার খালু মোঃ জয়নাল আবেদীনের বাসা হতে ভোলা জেলার দৌলতখান থানা পুলিশের সহায়তায় আসামি গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারপূর্বক উক্ত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে, সে জানায় তার স্ত্রীর নাম রিয়া। তার ৩ বছরের ১টি ছেলে আছে। তৌফিকের সাথে তার ২/৩ বছরের বন্ধুত্ব। তৌফিক মাঝে মধ্যে আসামি বাবুর বাড়িতে আসা যাওয়া করত। ১৯/০১/২০২৩ তারিখ সন্ধ্যা ০৭.০০ ঘটিকার সময় সে বাড়িতে এসে দেখে যে রিয়া ও তৌফিক রান্নাঘরে। তখন তার সন্দেহ হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করলে অদ্য ২২/০১/২০২৪ খ্রিঃ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমালী আদালত, যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়।



