গরম ঠান্ডা ঋতু পরিবর্তনে বাড়ছে মৌসুমী রোগ

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ বিদায় নিতে শুরু করেছে শীত দিনে গরম আর গভীর রাতে শীত পড়লেও সকাল হলে শীত উধাউ। এতে করে ঘরে ঘরে জ¦র, সর্দি-কাশি, গলাব্যাথা, শ^াসকষ্ট এ্যালার্জি, রোগের প্রকোপ বাড়ছে। যেকারনে দারুন বিপাকে পড়েছেন নি¤œ আয়ের শ্রমজীবী, বৃদ্ধ, শিশুরা। অধিকাংশ হাসপাতাল, ব্যক্তিগত চিকিৎসকের চেম্বারে বাড়ছে ভিড়। এ বিষয়ে কথা হয় খালিশপুরের নির্মাণ শ্রমিক মোঃ আজাদ আলীর সাথে তিনি বলেন, আমি দৈনিক পাঁচশ টাকা হাজিরায় কাজ করি। আমি সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমান ঋতুর অবস্থা এমন যে এই রোদ এই বৃষ্টি, শীত পড়ছে আবার গরম, সব ঋতু যেন একই সাথে পাওয়া যাচ্ছে। যেকারণে হঠাৎ করে প্রচন্ড জ¦রও গলাব্যাথা হয়। তারপরও কাজে যাচ্ছি তবে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন বিশ্রামে আছি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। কিছু সঞ্চয় টাকা ছিল তা ও শেষ কাজ করতে পারছিনা। কাজ করতে তারপরও গরীব মানুষ কাজে যেতে হচ্ছে। শরীরের সাথে আর পারছিনা শরীরও গলায় ব্যথা। জানুয়ারী মাসের বাসা ভাড়া বাকি পড়েছে। বাড়ীওয়ালা যথেষ্ট ভালো মানুষ সে এখন ও কোন ভাড়া আদায়ের জন্য কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করেনি তারপর ও কতদিন এভাবে যাবে জানিনা। সংসারে পাঁচ জন সদস্য বিভিন্ন খরচ থাকে।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. তানিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে সিয়াম ২য় শ্রেণীতে পড়ে হঠাৎ ১০৩ মত জ¦র সেই সাথে সর্দি নাকবন্ধ কাশি অনবরত কোন ভাবে কমছেনা। কিছু খেতেও পারছেনা। আমি চিকিৎসক কাছে গেলে তিনি দ্রুত খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেছেন। তবে আমার মত এরকম সমস্যা নিয়ে আরও অনেক সাধারণ মানুষেরা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে হাসপাতালে লাইন দিচ্ছে। এ বিষয়ে খুলনা ডেপুটি সিভিলসার্জন ডাঃ মো. কামাল হোসেন বলেন, এই গরম, ঠান্ডা, আর বৃষ্টিপাত কারণে অধিকাংশ মানুষের মৌসুমী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ফ্লু জাতীয় রোগ ছড়িয়ে পড়ে এর মাধ্যমে আরও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। যে কারণে অনেকে অসুস্থ হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু বৃদ্ধরা অসুস্থ হলে শরীর দূর্বল হতে থাকে বেশি করে পানি খেতে হবে রোদের মধ্যে ঘোরাফেরা করা যাবেনা। প্রাথমিক অবস্থায় প্যারাসিট্যামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। পাশাপাশি কাশির জন্য লবঙ্গ, আদা কুিচ মুখে দিয়ে রাখলে কাশি কমবে। এর মধ্যে তুলশির পাতা মিছরি ও গোল মরিচ জলে ফুটিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। এরপরও যদি না কম হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।



