স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় চোখে মুখে সুপার গ্লু দিয়ে গৃহবধুকে ধর্ষণ

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে ধর্ষকরা

ধর্ষণের সাথে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন : উন্নত চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালের সার্জারিতে ভর্তি, গত দুই মাসে শিশুসহ ধর্ষণের শিকার হয়ে ওসিসিতে ভর্তি ১৪ জন

কামরুল হোসেন মনি ঃ কখনো ছয় বছরের শিশু, কখনো প্রতিবন্ধী বালিকা, কখনো গৃহবধূ আবার ৬০ বছরের বৃদ্ধাকেও আটকে রেখে করা হচ্ছে গণধর্ষণ। এমনকি মা-বাবার সামনের ঘটনা ঘটেছে বহু জায়গায়। গতকাল সোমবার খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায় বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে চোখ-মুখে সুপার-গ্লু দিয়ে এক গৃহবধূকে (৪৫) ধর্ষণ করা হয়েছে। তাকে উন্নত চকিৎিসার জন্য সার্জারী ওয়ার্ডে রেফার্ড করা হয়েছে। ্চলতি বছরের ৪৩ দিনে খুলনাসহ আশ পাশ উপজেলায় মহিলা শিশুসহ ১৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সামনে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) ভর্তি হন। তবে গতকাল পাইকগাছায় একজন গৃহবধুর চোখে-মুখে সুপার গ্লু- দিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরকম আগে হয়েছে কি না কারোর জানা নেই। তবে এটার সবচে ভয়ংকররূপে ধর্ষণ বলে ভুক্তভোগিদের মনে হয়েছে। অপরদিকে রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা ও সাক্ষ্য গ্রহণের সময় ভিকটিমকে হয়রানির কারণেই অধিকাংশ ধর্ষণ মামলার বিচার হয় না। তাই ভুক্তভোগীদের মামলাতেও আগ্রহ কম। করোনায় দেশ স্থবির হয়ে পড়ার পরেও সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে শিশুরা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার পাইকগাছায় রাতে কে বা কারা মই দিয়ে ছাদে উঠে সিঁড়ির দরজা শাবল দিয় ভেঙ্গ গৃহবধূর বেডরুমে যায়। ওই গৃহবধূর স্বামী ব্যবসার কাজে বাইরে থাকায় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। এ সময় গৃহবধূকে হাত পা বেঁধে চাখে সুপার-গ্ল আঠা লাগিয়ে ও মুখে টেপ লাগিয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়।
এ সময় চোরেরা ১ জোড়া স্বর্নের কানের দুল এবং আনুমানিক ২ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গৃহবধূর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন গিয়ে তার স্বামীকে খবর দেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গৃহবধূর স্বামী মিডিয়াকে বলেন, একতলা ছাদের উপরের সিঁড়ি ঘর খোলা ছিল। আমার স্ত্রীর চোখ ও মুখে সুপার-গ্লু আঠা দিয়ে আটকে দেয় ধর্ষক। আমার স্ত্রী কথা বলতে পারছেন না তাই কয়জন চোর ছিল এখনই বলা যাচ্ছে না। মেডিকেল কলেজ (খুুমেক) হাসপাতালের সামনে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) সূত্র মতে, ফেব্রুয়ারি মাসের ১লা তারিখ থেকে গতকাল সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ৪ জন মহিলা ধর্ষিত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে ১০ জন মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এরা খুলনাসহ বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ধর্ষণের শিকার অনেকে লোকলজ্জা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঘটনা চেপে যান। অনেকে আবার আপোস করেন বা করতে বাধ্য হন। ফলে থানায় ধর্ষণের মামলার সংখ্যা কম। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার বাপ্পা মজুমদার বলেন, এরকমভাবে ধর্ষণ আমি আগে কোন দিন দেখিনি, চোখের মধ্যে সুপার-গ্লু। মহিলাটিকে চোখের ডাক্তার, গাইনী ডাক্তার দেখানো হয়েছে। আশাকরি এখন সে এখন বিপদমুক্ত। তবে তিনি এখনোও পর্যন্ত স্ব্ভাাবিক হতে পারেননি, তবে সময় লাগবে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’ গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোঃ বি এম নুরুজ্জামান বিপিএম বলেন, চাঞ্চল্যকর যে কোন মামলায় আমরা অন্যান্য আইন শৃঙ্খলার পাপাপাশি আমাদের নিজেদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আগে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত এবং ভুক্তভোগীরা এক বয়সসীমার মানুষ ছিল। এখন সব বয়সী নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অপরাধীরাও বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার রয়েছে। পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ওবায়দুর রহমান বলেন, গৃহবধূকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button