৮ঘন্টায় কোরবানীর বর্জ্য নিষ্কাশন করবে কেসিসি

# কোরবানীর জবাইকৃত পশুর বর্জ্য নিষ্কাশনে মাঠে থাকবে সাড়ে ৮’শ কর্মী #
# কাজের সুবিধার্থে ৩১টি ওয়ার্ডকে ১৬টি রুটে ভাগ করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ #
মো. আশিকুর রহমান ঃ ঈদ আসন্ন। আগামী ১৭ জুন (সোমবার) বাংলাদেশে পালিত হবে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা। মহান আল্লাহ তালারনৈকট্যলাভে মুসলিম উম্মাহ পশু কোরবানীর মাধ্যমে আত্মত্যাগে বলিয়ান হয়ে পালন করবে তাদের বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব। ইতোমধ্যে নগরীর জোটগেটসহ বেশ কিছু স্থানে পশুর হাট বসেছে। নগরবাসীও কোরবানীর জন্য পশু কিনতে শুরু করেছে। আসন্ন ঈদ-উল-আযহাকে ঘিরে নানামুখি পরিকল্পনার মাধ্যমে খুলনার কোরবানীকৃত পশুর বর্জ্য নিষ্কাশনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি’র) বর্জ্য ব্যবস্থাপণা বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদে খুলনায় যে পশু কোরবানী করা হবে, কোরবানীর জবাইকৃত পশুর সকল প্রকার বর্জ্য মাত্র ৮ ঘন্টায় অর্থ্যাৎ দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিরতীহীনভবে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য কাজ করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে কেসিসি’র বর্জ্য ব্যবস্থাপণা বিভাগ। কোরবানীর বর্জ্য নিষ্কাশনে এবার মাঠে থাকবে ৮৫০জন পরিচ্ছন্ন কর্মী। কাজের পরিসর বৃদ্ধি পেলে আরো ১০০জন কর্মী সময় বৃদ্ধি করে কাজ করবে, এভাবে টানা ৩দিন কাজ চলবে। তাছাড়া ৩১টি ওয়ার্ডকে ১৬টি রুটে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি রুটে একটি করে ট্রাক, ৪জন পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ২ জন সুপারভাইজার কাজের তদারকী করবেন। একই সাথে বর্জ্য নিষ্কাশনের সাথে সাথে গোটা শহরকে সুরক্ষিত ও জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য ইতোমধ্যে ৪০০০ কেজি বিলিসিং পাউডার ও ৪০০ লিটার স্যাভলনও সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা।
জানা গেছে, শহরের মধ্যে হতে কোরবানীকৃত পশুর বর্জ্য গুলো ছোট ট্রাকে করে এস.টি.এস ( সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) নিয়ে ফেলবে একদল পরিচ্ছন্ন কর্মী। আবার এস.টি.এস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) হতে বড় ট্রাকারের লোডারের মাধ্যমে বড় ট্রাকে করে সরাসরি রাজবাঁধে নিয়ে ফেলবে আরেক দল পরিচ্ছন্ন কর্মী। তাছাড়া ওয়ার্ড পর্যায়ের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কোরবানী করা বিভিন্ন স্থান হতে ভ্যানে করে স্ট্রেট বা উম্মুুক্ত এস.টি.এস ( ওপেন আনকনট্রোল সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) নিয়ে ফেলবে। সেখান হতে কেন্দ্রীয় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। পশু কোরবানীর পর নির্ধারিত স্থান সমূহে জীবাণুমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ হতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩১টি ওয়ার্ডে জাবাণুনাশক দেওয়া হবে। সাধারন কাউন্সিলরগণকে ৬০ কেজি বিলিসিংসহ ৪ লিটার স্যাভলন ও সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলদের ৩০ কেজি বিলিসিং ও ২ লিটার স্যাভলন প্রদান করা হবে। তাছাড়া শহরের মধ্যে প্রতিটি এস.টি.এস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন ) হতে কোরবানীর বর্জ্য অপসারনের পর বিলিসং ও স্যাভলনের পানি দিয়ে ধোয়া হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আরিফ হোসেন মিঠু জানান, কোরবানী ঈদ আসন্ন। প্রতি বছরই সিটি কর্পোরেশন কোরবানীর জবাইকৃত পশুর বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করে থাকে। একই সাথে আমার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিস হতেও বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। এবছরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর ১টার পর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থান হতে কোরবানীর পশুর বর্জ্য অপসারণের কাজ চলবে। ওয়ার্ডে যেন কোনো দুগন্ধ না ছড়ায় তার জন্য বিলিসিং পাউডার ও স্যাভলন দিয়ে স্প্রে করা হবে। তবে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি ফরিয়াদ থাকবে তিনি যেন আকাশ হতে বৃষ্টি নামিয়ে দেন। বৃষ্টি হলে সকল বর্জ্য নিমেষেই অপসারণ হয়ে যাবে, থাকবে না কোনো দুগন্ধ। দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাকিব জানান, কোরবানী ঈদ সামনে। ইতোমধ্যে মানুষজন কোরবানী পশু ক্রয় করা শুরু করেছে। কেসিসি’র পক্ষ হতে পশু কোরবানীর জন্য নির্ধারিত জায়গা ঠিক করে দিলেও অনেকে রাস্তার উপর, পাড়া-মহল্লার যত্রতত্র পশু কোরবানী করেন থাকেন। যদিও তাতে আহামরি কোনো অসুবিধা নয় না, যদি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে বর্জ্য অপসারণসহ জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। নইলে বাতাসে মিশে দুগর্ন্ধের সৃষ্টি হবে। প্রত্যাশা একটাই কেসিসিসহ নিজ উদ্যেগে কোরবানীর জবাইকৃত পশুর বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার। এতে করে সুরক্ষিত থাকবে গোটা শহর। প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের মতো এবছরও কোরবানীর পশুর বর্জ্য নিষ্কাশনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশাবাদি ৮ ঘন্টার মধ্যে গোটা শহরের বর্জ্য নিষ্কাশন সম্ভব হবে। আমরা ঈদের দিন হতে পরপর তিন দিন দুপুর ২টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত বিরতিহীন কাজ করবো। প্রয়োজন হলে লোকবল বাড়ানোসহ সময় বৃদ্ধি করে কাজ চলমান থাকবে। কোরবানীর পর ওই সকল স্থানসমূহে দুগর্ন্ধমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সুরক্ষিত ও জীবানুমুক্ত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জীবাণুনাশক দেওয়া হবে। আশাবাদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নির্ধারিত কাজ শেষ করবো ইনশাল্লাহ।



