মৎস্য বিভাগের এনএটিপি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে

পিডি মনিরুজ্জামানের সম্পদের উৎস্য নিয়ে প্রশ্ন
একটি অভিযোগের তদন্ত আজ
স্টাফ রিপোর্টার :
মৎস্য বিভাগের ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রকল্পের প্রদর্শনী খামার ও ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে নামমাত্র অর্থ ব্যয় করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। এছাড়া উল্লিখিত প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামানের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনেরও অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে তদন্তপূর্বক তার বিরনুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে করা একটি অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রমের শুনানী আজ রোববার মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী বরাবর ২২ এপ্রিল দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস গ্রামের আব্দুর রশিদ উল্লেখ করেন, মৎস্য অধিদপ্তরে কর্মরত এনএটিপি প্রকল্পের সাবেক সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও বর্তমানে মৎস্য ভবনে অ্যাকুয়া কালচার বিভাগে কর্মরত মনিরুজ্জামান প্রকল্পের সুফলভোগীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করতেন। তিনি প্রকল্প থেকে গাড়ী দেওয়া, অনলাইনে মাছ মার্কেটিং, বরফ কলের উন্নয়ন, মাটি কাটাসহ বিভিন্ন খাত থেকে কমিশন গ্রহণ করতেন। বর্তমানে অ্যাকুয়া কালচারে কর্মরত থেকে চাকুরীর তদবীরে ব্যস্ত থাকেন। গ্রাম থেকে আসা লোকদের তার স্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত আছে বলে পরিচয় দেন এবং চাকুরী দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চাকুরীর প্রথম জীবনে তিান খুলনা কোয়ালিটি কন্ট্রোল পদে যোগদান করেন এবং মাছ রপ্তানীকারকদের হয়রানী করেন। চিংড়িতে পুষকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়ায় চিংড়ি ব্যবসায়ীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তৎকালীন ডি.ডি কোয়ালিটির কাছে অভিযোগ দেন।
অপরদিকে, দুদক বরাবর ১২ মে দাখিলকৃত আলাদা অভিযোগে ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া এলাকার সুব্রত সমাদ্দার উল্লেখ করেন, এস এম মনিরুজ্জামান, পরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ন্যাশনাল এগ্রিকালচার, টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) প্রকল্পের আওতায় দেশের ২২টি উপজেলায় স্থপিত প্রডিউসার অর্গানাইজেশন (চঙ) কার্যক্রম চলাকালে প্রদর্শনী খামার, সুফলা ভোগীদের গাড়ি বিতরণ, মৎস্য বাজার উন্নয়ন, ই-মার্কেটিং খাত হতে অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মাহাবুবুর রহমানের সহযোগিতায় মোটা অংকের অর্থ আত্মসাত করেন। যাতে এই সেক্টরের সুফলভোগীরা সরকারের দেওয়া সুবিধা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে ডুমুরিয়া উপজেলায় ১৩০টি প্রদর্শনী খামার কাগজ কলমে দেখিয়েছেন। বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব ছিল না। এছাড়া ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, ডুমুরিয়া উপজেলার বিপুল পরিমান জমি, সমিতি ও বিভিন্ন ব্যবসায় অর্থ লগ্নী করেছেন। এছাড়া খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলায় তার শ্বশুর বাড়িতে ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী’র নাম ভাঙ্গিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চাকুরী প্রার্থিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বরাবর মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত ন্যাশনাল এগ্রিকাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) এর (মৎস্য অংশ) এর বাস্তবায়িত কাজে ব্যবহৃত তহবিলের হিসাব পুনঃনিরীক্ষার আবেদন জানিয়েছেন যথাক্রমে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বাগেরহাটের শরণখোলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি এনামুল হক জমাদ্দার ও নরসিংদী মৎস্য খামার মালিক সমিতির সভাপতি জয়দেব বর্মন। লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, এনএটিপি-২ প্রকল্পটি সমগ্র বাংলাদেশের মৎস্য চাষী সহ সুফলভোগীদের কল্যাণে টিএপিপি অনুযায়ী অংশ ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন পূর্বক ব্যয় নির্বাহ করার কথা চিল এবং বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করার কথা ছিল। কিন্তু উক্ত প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত পিডি এস এম মনিরুজ্জামান কর্তৃক অনুমোদিত টিএপিপিতে বর্ণিত অংশভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন না করায় (অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যায় না করে ভাউচার প্রণয়ন করা হয়েছে) সরকারি ও বিদেশী দাতা সংস্থার বিপুল পরিমাণ অর্থ তছরূপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জেলার সুফল ভোগীদের সাথে মতবিনিময় করে জানা গেছে- সুফল ভোগীরা নির্ধারিত বিষয়গুলোতে সুফল ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ অবস্থায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের মৎস্য অংশের কাজের ব্যবহৃত তহবিলের হিসাব পুনঃনিরীক্ষা প্রয়োজন।
উল্লিখিত প্রকল্পে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে এস এম মনিরুজ্জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, এসবের কোন সত্যতা নেই। শুধুমাত্র তাকে হয়রানির জন্য একটি গ্রুপ এসব অভিযোগ করেছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন বলেও উল্লেখ করেন।



