সুন্দরবনে প্রবেশে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহারের দাবীতে মানববন্ধন

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ সুন্দরবনে ৩ মাসের জন্য পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবীতে মানবন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে মোংলা বন্দর জালিবোট মালিক সমিতি, ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) ও যন্ত্র চালিত মাঝিমাল্লা সংঘ সহ কয়েকটি সংগঠন। মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ও ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু ক্যানেলের ত্রিমোহনায় এ কর্মসুচি পালন করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। আয়োজকরা জানায়, সুন্দরবনের প্রান প্রকৃতি সুরক্ষায় বন্যপ্রানী ও মৎস্য সম্পদের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ২০২২ সাল থেকে সুন্দরবনের পর্যটক ষ্পট করমজল, হারবাড়িয়া ও আন্দারমানিক এলাকায় তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। ১ জুন থেকে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকবে বলে নির্দেশনা জারি করা হয়। এ তিন মাস পর্যটক পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার পর্যটক পরিবহন নৌযান শ্রমিকরা বেকার বসে থেকে অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। অন্য পেশায় যেতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছে শ্রমিক ও ট্যুর মালিকরা । দ্রুত এ নিষেধাজ্ঞা প্রতাহারের দাবীতে মানববন্ধন সহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করছেন তারা। এসময় তাদের জীবন জীবিকা চলার বাহন নৌযানে কয়েক শহ¯্রাধিক মালিক কর্মচারী ও শ্রমিকরা ব্যানার হাতে নিয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন পশুর চ্যানেলের এ রুট দিয়ে প্রতিনিয়ত পন্য বোঝাই দেশ-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ, কার্গো ও লাইটার জাহাজ, তেলের ট্যাংকার সহ বড় বড় নৌযান চলাচল করছে। যাতে প্রচন্ড ডেউ ও শব্দ করে চলছে এসকল নৌযান। তাতে যদি সুন্দরবনের বন্যপ্রানী বা মাছের প্রজনন নষ্ট না হয়, তবে সামান্য ছোট্ট্র জালি বোট বা ট্রলার চলাচল করলে কি ভাবে বন্যপ্রানী বা মাছের প্রজনন নষ্ট হয় তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী সংগঠনের নেতাদের। এছাড়া হারবাড়িয়া, ফেয়ারওয়ে বা হিরনপয়েন্ট এলাকায় বানিজ্যিক জাহাজে দেশ-বিদেশী নাবিক, আমদানী-রপ্তানীকারক ব্যবসায়ীরা চলাচল করছে। তাদের যাতায়াতেও জালী বোট সহ অন্যান্য নৌযান অবাধে চলাচল করছে। নদীতে পর্যটকব্যাহী এসকল বোট দেখলেই তা আটকিয়ে মোটা অংকের জরিমানা আদায় সহ নানাবিধ হয়রারি করছে বন বিভাগের সদস্যরা, বলে অভিযোগ মানববন্ধনের আযোজকদের। মানববন্ধনে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযানের উপর বনবিভাগের এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পর্যটক খাতকে আরো শক্তিমালী করার আহবান জানানো হয়। যদি সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশের চলমান তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হয় তবে আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারী করেন জালি বোট মালিক সমিতির সভাপতি এইচ এম দুলাল সহ মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসুচি আয়োজক ও সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দরা। এসময় মোংলা বন্দর জালী বোট মালিক সমিতির সভাপতি ও বন্দর ব্যবসায়ী এইচ এম দুলাল, সাধারন সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, মাঝি মাল্লা সমিতির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মোঃ সোহাগ, খুলনা টোয়াস’র দপ্তর সম্পাদক মোঃ রকি, মোংলা পোর্ট ভ্যান-রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক এরশাদুজ্জামান সেলিম সহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন।



