কেসিসির ভেটেরিনারি বিভাগের অভিযান

# খাওয়ার অযোগ্য গাভীর শত কেজি মাংস জব্দ : বাজার মূল্য ৮০ হাজার টাকা #
# কসাই রবির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি চক্র #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরিনারি বিভাগের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে অসুস্থ্য গাভী গরুর একশত কেজি খাওয়ার অযোগ্য মাংস জব্দপূর্বক মাটির নীচে চাপা দেয়া হয়েছে। যার বাজার মূল্য আসে ৮০ হাজার টাকা। পশু জবাই ও মাংসমান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ অনুযায়ী শনিবার ভোরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস পুলিশের সহযোগিতায় । কসাই রবির সহযোগি জুয়েল এ অপকর্মটি করেন। এছাড়া কেসিসি কর্তৃক নগরীর কসাইদের একটি ৯টি নিয়ম সম্বলিত একটি নির্দেশনা কপি সবাইকে দেন এবং প্রতিটি কসাইখানার সামনে তা সাইনবোর্ড আকারে সাটানো হয়েছে। তারপর ওই নির্দেশনার ৪নং দফায় বলা হয়েছে, “কসাইখানায় রাত ১০টার পর হতে সুর্যাদয়ের পূর্ব পর্যন্ত কোন গরু/মহিষ কসাইখানায় প্রবেশ করানো যাবে না”। কসাই জুয়েল কেসিসির ওই নির্দেশনাও ভঙ্গ করে আইন অমান্য করেছেন। জুয়েল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ১০/১২ জন ধারালো অস্ত্রধারী যুবক নিয়ে অসুস্থ্য গাভীসহ জোর করে কসাইখানায় প্রবেশ করেন। এ সময় কসাইখানার দারোয়ান আহাদ বাধা দিলে তারা জোরপূর্বক কসাইখানায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা অসুস্থ্য গাভী জবাই দেয়ার জন্য কসাইখানার মোল্লা আওয়ালকে চাপ প্রয়োগ করে। তিনি রাজি না হওয়ায় কসাই জুয়েল ও তার লোকজন নিজেরাই অসুস্থ্য গাভীটিকে জবাই করে। পরে খবর পেয়ে কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস কসাইখানায় আসেন। তিনি জবাইকৃত গাভীর সব কিছু পরীক্ষা করে দেখেন এটি অসুস্থ্য গাভী। এ সময় তিনি সোনাডাঙ্গা পুলিশের সহায়তায় জবাইকৃত মাংস জব্দ করে মাংসে কেরোসিন ও পেট্রোল মিশানো হয়। যার ওজন শত কেজি। বাজার মূল্য ৮০ হাজার টাকা। পরে তা রাঁজবাধ ডাম্পিং পয়েন্টে মাটির নীচে চাপা দেয়া হয়। ধরালো অস্ত্রধারী কসাইয়ের সামনে ভেটেরিনারী অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বড়ই অসহায় ছিলন। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি খাবার অযোগ্য মাংস কোনভাবেই নিতে না দিয়ে তা জব্দ করেন। এ চক্রটি কসাই রবির নেতৃত্বে খুলনার বিভিন্ন স্থান থেকে অসুস্থ্য গরু ছাগল ক্রয় করে তা গোপনে জবাই দিয়ে কসাইদের নিকট সরবরাহ করে থাকে। গত ১০ এপ্রিল রবির আরেক সহযোগী রাসেল কসাই অসুস্থ্য গরু নিয়ে গল্লামারি কসাইখানায় জোর করে প্রবেশ করে। পরে সকলের বাঁধার মুখে রাসেল অসুস্থ্য গরু ফেরৎ নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কেসিসির ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, অভিযুক্ত কসাই জুয়েলকে অফিসে তলব করা হয়েছে। তাকে কেসিসির মাংসেরমান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী আজ রবিবার অফিস খোলার পর জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে। সাধারণ কসাইরা জানান, খুলনায় রবির নেতৃত্বে একটি চক্র গড়ে উঠেছে যারা মরা ও অসুস্থ্য গরু ছাগল জবাই দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সেই মাংস সরবরাহ করে থাকে। এ চক্রটির অবস্থান বেশী ডুমুরিয়া অঞ্চলে। তাদের কারণে প্রকৃত কসাইয়ের বদনাম হচ্ছে। অবিলম্বে এ চক্রটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান সাধারণ কসাইরা।

