সাতরাস্তা মোড় থেকে ইসলামপুর জামে মসজিদ সড়কে জন ভোগান্তি চরমে

# মাত্র ৩০০ মিটার রাস্তায় ভাসমান ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, # দুই পাশ দখলে ২৫-৩০ ভ্যানগাড়ি #
কামরুল হোসেন মনি ঃ নগরীর সাতরাস্তা মোড় থেকে ইসলামপুর জামে মসজিদ পর্যন্ত মাত্র ৩০০ মিটার। এই টুকু রাস্তায় দুই পাশে ভাসমান ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য এখন চরমে। এই টুকু রাস্তার দুই পাশে রয়েছে প্রায় ২৫টি ভ্যানগাড়ি। চলাচলের ক্ষেত্রে মারাত্মক অসুবিধা হলেও তাদের অপদখল এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। রাস্তার দুই পাশে জুড়ে বিস্তৃত ভাসমান ব্যবসায়ী। ফলে রাস্তাটি হয়ে পড়েছে সংকুচিত। এতে দিনরাত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ভ্যানগাড়িতে মাছ, ফলমূল ও শাকসবজি বিক্রির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ এদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মৌখিকভাবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে বলা হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। উল্টো ওই সব ভাসমান ব্যবসায়ীরা আমাদেরকে হুমকি-ধামকি দেন। ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ এস এম রফিউদ্দিন আহমেদ রফিক বলেন, এমনিতে রাস্তা সরু। সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। তারপর যদি ভ্যানগাড়িতে করে রাস্তা দখল করে ব্যবসা করে সেক্ষেত্রে যানজট সৃষ্টি তো হবেই। রাস্তায় চলাচলের জন্য যাতে জনগনের দুর্ভোগ পোহাতে না হয় সে জন্য আমি সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমি আজ বিষয়টি নিয়ে মেয়র মহাদ্বয়ের সাথে কথা বলবো, সাথে সাথে অভিযান পরিচালনা করার উদ্যোগ নেবো। যাতে অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে কেউ যাতে ব্যবসা করতে না পারেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাতরাস্তা মোড় থেকে ইসলামপুর জামে মসজিদ মাত্র ৩০০ মিটারের রাস্তা। এইটুকু রাস্তায় দুই পাশ জুড়ে ২৫-৩০টির মতো ভ্যান গাড়ি থাকে। এসব ভ্যান গাড়িতে করে মাছ, ফল, শাকসবজি থেকে নানা ধরনের তৈরি খাবারও বিক্রি হয়। এসব বিক্রি চলে সকাল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত। একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অসৎ ব্যক্তিরাও এই ফুটপাত ও রাস্তা ইজারা ব্যবসার সাথে জড়িত এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী জনগণের।স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দিন যতো যাচ্ছে নগরীতে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ভাসমান ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বিস্তৃত হচ্ছে। তাদের কারণে প্রতিদিন বহু মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে মানুষের। এই রাস্তা দিয়ে অসুস্থ মানুষ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন সময়মতো হাসপাতাল, ডাক্তারের চেম্বার কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছতে পারছেন না। দিনের ব্যস্ততম সময়ে রিকশাসহ অনেক যানবাহন চালক নগরীর সাতরাস্তা মোড় থেকে ইসলামপুর রোডে যেতে চায় না। গেলে দীর্ঘসময় আটকা পড়ার ভয়ে যেতে চায় না। এ অবস্থার অবসান প্রয়োজন। গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় ওই রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, একটি ইজিবাইক অসুস্থ রোগীকে নিয়ে পুর্ববানিয়া খামার দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় দুই পাশে রাস্তায় ভাসমান ভ্যানগারীর ব্যবসায়ীদের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। তখন ইজিবাইকের যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে ওই যাত্রী নেমে ভ্যানগাড়ি সরানোর চেষ্টা করেন। এই সড়কের রাস্তা দখলের চিত্র সিটি করপোরেশন বা পুলিশ কি দেখে না? দেখেও তারা না দেখার ভান করে।

