ফুলতলায় চাচা হত্যাকারী ভাতিজা গ্রেফতার হয়নি, চাচি ও চাচাতো ভাই আশংকাজনক

স্টাফ রিপোর্টার/ফুলতলা প্রতিনিধি : ফুলতলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচা শেখ মুজিবুর রহমানের (৫৫) একমাত্র হত্যাকারী ভাতিজা আশরাফুল আলম ওরফে সূর্য্য ওরফে কুতুবকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনার পর পরই সে আত্মগোপন করে।
এদিকে, ভাতিজার অস্ত্রাঘাতে চাচি পুষ্প শেখ (৫০) ও ছেলে হাফেজ শেখ মিরাজ (২২) আশংকাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলতলা উপজেলার খানজাহানপুর গ্রামে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ মুজিবুর রহমান খানজাহানপুর গ্রামের মৃত শেখ আতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্ট মর্টেম শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে, এ ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের হয়নি।
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে, একমাত্র হত্যাকারী আশরাফুল আলম ওরফে সূর্য্য ওরফে কুতুবকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। সে মাদকাসক্ত এবং ভবঘুরে বলে জানান তিনি। হত্যাকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাসার জানান, শেখ মুজিবুরের সঙ্গে তার ভাতিজা আশরাফুল আলম ওরফে শেখ কুতুব উদ্দিনের জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জের ধরে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের মধ্যে বাগ-বিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কুতুব উদ্দিন ধারালো হাসুয়া দিয়ে চাচা মুজিবরকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এ সময় তাকে ঠেকাতে গেলে কুতুব উদ্দিন মুজিবরের স্ত্রী পুষ্প শেখ ও ছেলে হাফেজ শেখ মিরাজকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে । ধারালো হাসুয়ার আঘাত ঠেকাতে গিয়ে মুজিবের ডান হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনার পর ঘাতক ভাতিজা কুতুব উদ্দিন পালিয়ে যায় পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শেখ মুজিবর রহমানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুজিবরের স্ত্রী পুষ্প শেখ ও ছেলে হাফেজ শেখ মিরাজকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


