স্থানীয় সংবাদ

তিন খাতকে প্রাধান্য দিয়ে চলছে বাস্তবভিত্তিক কেসিসির বাজেট প্রনয়ণ কাজ

এবার বাজেটের আকার হবে ছোট

খলিলুর রহমান সুমন ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেট প্রণয়ন নিয়ে চলছে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। নতুন পরিষদ বিগত দিনের ভুলত্রুটি ঠিক করে কার্যকরী একটি বাজেট পেশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে অর্থ স্ট্যান্ডিং কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। কিন্তু সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারেননি। সোমবারও বৈঠক হয়। তবে তিনটি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের বাজেট পেশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। একই সাথে এবারের বাজেটের আকার হবে ছোট। কারণ বড় বড় বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট শেষ পর্যায়ে এসেছে। বেশী বরাদ্দের খাত তিনটি হলো, কনজারভেন্সী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও আইটি বিভাগ। অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটি বাজেট প্রনয়ন নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ সোমবার বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সাহিদুর রহমান। সভায় ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যা বাস্তবায়ন করা হবে তাই বাজেটে উঠে আসবে। কল্পনা প্রস্যূ কোন অর্থ এবার বাজেটে যোগ না হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। এবারের বাজেটের আকার হবে ছোট। তাও আবার গত অর্থ বছরের চেয়ে আকার প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিটি। সে হিসেবে মতে, এবার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে ৬শত কোটি টাকার ভিতরে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল প্রায় ১০৮৩ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৮৬১ কোটি টাকা। যা সংশোধিত হয়ে দাঁড়ায় ৬৯৭ কোটি টাকা। বিগত দিনের মত প্রস্তাবিত বাজেট থেকে অর্জিত বাজেটের আকার যেন খুব বেশী পার্থক্য না হয় সে দিকে নজর রেখে এবার বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সোমবারের সভায় সকল বিষয়ে কমিটি একমতে পৌছাতে না পারায় আর কিছু বিষয় যোগ বিয়োগ করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়। ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর মেয়র তালুকদার আঃ খালেক ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেন। এবারও তিনি পেশ করবেন। তবে তা আগস্ট না কি নভেম্বর মাসে তা এখনও ঠিক করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের টার্গেট ৯০ ভাগ পূরণ করতে পারলেও ব্যয়ের টার্গেটে অনেক পিছনে। ব্যয়ের টার্গেট ৫০ ভাগও শেষ করতে পারেনি কেসিসি। অনেক খাতে ব্যয় করা জরুরী থাকলেও তা করা হয়নি। কেন করা হয়নি সে বিষয়টি এবারের খসড়া আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। কেসিসিতে জনবল নিয়োগের ১১৯৭ জন সেট আপের বিপরিতে কাজ করছে ৫৫০ জন। সেই সেটআপ কেসিসি পূরণ না করে নতুন সেট আপ তৈরী করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। মন্ত্রণালয় আগের সেট আপ পূরণ করার পর নতুন সেট আপ দাখিলের নির্দেশনা দেয়। এই জনবল ঘাতটি পূরণের জন্য শিগগিরই ৩১০ জন কর্মচারিকে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সংযোজিত করা হয়েছে। সড়ক বাতি উন্নয়ন ও আইটি সেকশন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত খসড়া বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বাজেটে নতুন করে গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) আরোপ করা হবে না। তবে নতুন করে যেসব ভবন হচ্ছে তা গৃহ করের আওতায় আনার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে। বাজেট কাম একাউন্ট অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এবারের বাজেটের আকার হবে ছোট ও বাস্তবভিত্তিক। ৩১টি ওয়ার্ডে কম্পিউটার সেট স্থাপনের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাবনা ভাল উদ্যোগ। খসড়া প্রস্তাবনা এ বিষয়টি খুবই গুরুত্ব পেয়েছে। এবারের প্রণয়নকৃত বাজেটে নতুনত্ব কিছু থাকবে, যা বিগত বছরে ছিল না। তবে কবে নাগাদ বাজেট পেশ করা হবে সে ব্যাপারে এখন কিছু চুড়ান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button