লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকসহ দুর্নীতিবাজদের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক বাদশা খান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ গাউস উদ্দিন শিকদার ও গভর্ণিং বডির প্রাক্তন সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর টিপু’র দুর্নীতি, স্কুলের সম্পদ চুরি, বেআইনিভাবে স্কুলের ভবন বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎন নানা রকম অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়নে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষে শামিমা আক্তার জুই। তিনি বলেন, ২০০৮ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত স্কুলের সাবেক সভাপতি, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবার টিপুর নেতৃত্বে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের যে সকল দুর্নীতি করেছেন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। কিন্তু তাদের হয়ে বর্তমানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যান্য শিক্ষকদের ভয়-ভীতি ও হুমকি ধামকি দিচ্ছেন কিছু শিক্ষক। তারা হলেন, সঞ্জয় কুমার পাল, উজ্জ্বল কুমার কুন্ডু, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও শামসুন নাহার জলি। আবার বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ লুটপাট এর সাথে জড়িত আছেন অফিস সহকারী রবীন্দ্রনাথ সরকার। গত বছরের ২১ শে আগস্ট শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। এরপর ২৮ শে আগস্ট প্রধান শিক্ষক আবার স্কুলে এলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করায় নৌবাহিনীর সদস্যরা এসে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে স্কুল থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়করা সিদ্ধান্ত দেন যে, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসবেন এবং শিক্ষকদের রুমে বসবেন। যতদিন না তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত না হয় ততদিন তাদের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকসহ তার অনুসারিরা শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও মানষিক টর্চার চালাতে থাকে। শিক্ষার্থীরা আবার প্রতিবাদ করলে এডিসি শিক্ষা সাদিয়া আফরিন স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে স্কুলে আসতে নিষেধ করেন। সেইসাথে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন। যার প্রেক্ষিতে গত ১৬ই অক্টোবর সহকারি এসি ল্যান্ড ইমরান হোসেন তদন্তে এসে তাদের বিরুদ্ধে আনীত ১১ টি অভিযোগের ৮টির সত্যতা খুজে পান। কিন্তু ১৭ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এসময় তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক গত ৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের সহায়তায় ৫০/৬০টি মোটর সাইকেল সহ স্কুলে প্রবেশ করেন। এসময় তারা তালাবদ্ধ কক্ষের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের হত্যাসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যায় তারা। সম্প্রতি যেসকল শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল তাদের লিস্ট তৈরি করেন এবং শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন, সেই লিস্টে স্বাক্ষর করতে। শিক্ষকরা কেউ কেউ অপরাগতা প্রকাশ করলে তাদের হত্যার হুমকি ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন প্রধান শিক্ষক। অনেক শিক্ষক ভয়ে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। উক্ত লিস্ট থেকে কিছু শিক্ষার্থীকে টিসি দেন। আবার অনেককে এখনো ভর্তি করা হয়নি। এছাড়াও এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে তাদের অপমান অপদস্ত ও অসম্মানজনক নির্দয় আচরণ করেন ও হুমকি প্রদান করা হয়।সবশেষে তিনি সকল অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, চুরি, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিচার চান। যে শিক্ষক কলম নয়, অস্ত্র ও পেশি শক্তির ব্যবহার করে, এমন শিক্ষকদের আমরা স্কুলে দেখতে চাই না। তাই তাদের অপসারণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



