স্থানীয় সংবাদ

নতুন ভিসি চান কুয়েট শিক্ষার্থীরা : শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও হল খোলা

# তালাবদ্ধ প্রশাসনিক ভবন, তদন্ত শুরু #

স্টাফ রিপোর্টার : সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার দু’দিন পরও আতংক কাটেনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- কুয়েটে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে সকল হল। তবে, কিছু শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতার কারণে হল ত্যাগ করলেও অধিকাংশ হলে অবস্থান করছে। যদিও ৫ দফা দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাগিয়ে দেওয়া তালা ঝুলছে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনগুলোতে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে ক্যাম্পাসে। তবে ভিসি চিকিৎসার জন্য একদিনের ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
অপরদিকে, হামলার নেপথ্যের ঘটনা ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহেদুজ্জামান শেখ উল্লিখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের তত্বাবধায়নে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভিসি ঢাকায় অবস্থান করায় প্রোভিসি দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, কুয়েটের ভিসি, প্রোভিসি এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা নতুন ভিসি নিয়োগের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত মঙ্গলবার কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ দফা দাবি দেয়া হলেও কুয়েট প্রশাসন সেটা পূর্ণাঙ্গ রূপে মানেনি। এ ঘটনায় কুয়েটের ভিসি, প্রোভিসি এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে বর্জন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কুয়েট প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। যার কারণে তারা নতুন প্রশাসন চায়। শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। সেখানে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, আমাদের যে দাবি দাওয়া ছিল তা মেনে নেওয়া হয়নি। আমরা চাই ছাত্র রাজনীতি বন্ধের যে অধ্যাদেশ আছে সেটাকে পরিবর্তন করে অর্ডিন্যান্স করে হবে। আমাদের ছাত্রশিবির বলে যে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে তা মিথ্যা ও ফেভরিকেটেড। প্রধান উপদেষ্টার কাছে আমাদের দাবি, যত দ্রুত নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে সেটাকে পরিবর্তন করে অর্ডিন্যান্স করতে হবে। যাতে কেউ আদালতে গিয়েও ছাত্র রাজনীতি করার অধিকার ফিরে না পায়।
এদিকে কুয়েটের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গঠিত চার সদস্যের কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. এম এ হাশেম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। তদন্তের জন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবো। তবে প্রশাসনিক ভবন এবং একাডেমিক ভবনগুলো তালাবদ্ধ থাকায় কার্যক্রম কিছুটা বিঘিœত হচ্ছে। তিনি তদন্ত কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূরণ করা হয়েছে। আশা করি শিক্ষার্থীরা শিগগিরই ক্লাসে ফিরবে। তাদের সব দাবি তো পূরণ করেছি, এ কারণে আমি পদত্যাগ করছি না। শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কিতে আমি আঘাতপ্রাপ্ত হই। এছাড়া একদিন অবরুদ্ধ ছিলাম। এ কারণে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button