শহীদ মিনার ভেঙে শৌচাগার নির্মাণকে ঘিরে মণিরামপুরে দুই বিদ্যালয়ের বিরোধ তুঙ্গে

# কাগজের মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন #
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের কুশরীকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভেঙে তদস্থলে শৌচাগার (ওয়াশরুম) নির্মাণ করায় একই চত্বরে অবস্থিত কামিনীডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালে ইটের স্তুপে সাদা কাগজ মুড়িয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার ভেঙে শৌচাগার নির্মাণ করায় কুশরীকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদের শাস্তি দাবি করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একই চত্বরে অবস্থিত দুই বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত শহীদ মিনারে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছিল। সম্প্রতি কুশরীকোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ সেই শহীদ মিনারটি ভেঙে সেখানে শৌচাগার নির্মাণ করেন।
এ ঘটনায় কামিনীডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান চলতি মাসের প্রথম দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পাশাপাশি তিনি বিদ্যালয়ের জমি দখল করে গাছ রোপণ ও শহীদ মিনার ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি কুশরীকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও সহকারী শিক্ষক সুকুমার মল্লিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তারই পেক্ষিতে পুলিশ গত বুধবার(১৯ ফেব্রুয়ারি) দুই শিক্ষককে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন। তারা জামিনে মুক্ত হন। কামিনীডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান জানান, শহীদ মিনার ভেঙে টয়লেট নির্মাণের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের পর প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ তড়িঘড়ি করে নিজেদের ভবন ঘেঁষে নামমাত্র শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারিনি। তাই আমাদের ছাত্রীরা ইটের স্তুপে কাগজ মুড়িয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিয়েছে।তিনি আরও জানান, ১৯৮৩ সালে কামিনীডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর একই জমিতে কুশরীকোনা প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিজ খরচে নির্মিত শহীদ মিনারটি কারো সাথে পরামর্শ ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে তা ভেঙে জমি দখলে নিয়ে সেখানে শৌচাগার নির্মাণ করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, সরকারিভাবে ওয়াশরুম বরাদ্দ পাবার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে পুরোনো শহীদ মিনার ভেঙে সেই জায়গা ওয়াশরুম নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি মাসের ৬ তারিখে নতুন করে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।



