কুয়েটে এখনও তালাবদ্ধ উপাচার্যের বাসভবন

# দাবি আদায়ে অনড় কুয়েট শিক্ষার্থীরা #
# ভিসিসহ তিন শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার নিকট চিঠি #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছিলেন। শনিবার বেলা ১২টায়ও ওই ভবন তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি না আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগ দাবিতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। কুয়েট জনসংযোগ বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়, বেলা ১২টায়ও উপাচার্যের বাসবভন তালাবদ্ধ রয়েছে। ওই বাসভবনে তিনি একাই থাকতেন। উপাচার্য চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রয়েছেন। এদিকে কুয়েট সংগঠিত সংঘর্ষের ঘটনায় ২১ ফেব্রুয়ারি কুয়েট শিক্ষক সমিতি একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ মাধ্যমের কাছে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৮ ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নির্মমভাবে আহত করার ঘটনায় শিক্ষক সমিতি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। একই সাথে কিছু শিক্ষার্থী কর্তৃক ভাইস- চ্যান্সেলরসহ কয়েকজন শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ও শিক্ষকবৃন্দের সাথে অশোভন আচরণ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনের অবহেলা বা ব্যর্থতার অভিযোগে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা কোন পরিস্থিতিতেই শিক্ষকবৃন্দ মেনে নেবে না। এহেন ঘৃন্য আচরণ কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘটিত হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয় এবং এর নেপথ্যে কুচক্রী, স্বার্থান্বেষী মহল তথা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের চক্রান্ত জড়িত রয়েছে। ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়ার পরও যথাসময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা না করার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ঘিরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশত শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহতদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারসহ আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ছাত্ররা সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি জানান। দাবি না মানায় ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে কুয়েট উপাচার্যকে মেডিক্যাল সেন্টারে অবরুদ্ধ করা হয়। তিনি বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থাতেই তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারির জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনলাইনে উপস্থিত থেকে সভাপতিত্ব করেন। অন্যদিকে খানজাহান আলী থানার ওসি কবির হোসেন জানান, কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন করে কোন গ্রেফতার নেই। ভিসির রুমের তালাও খুলছে না শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কুয়েট ভিসি প্রফেসার ড. মুহাম্মদ মাছুদ, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শরিফুল ইসলামের অপসারণ এবং নতুন নিয়োগের দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার এই চিঠি পাঠানো হয় বলে আন্দোলনকারীরা নিশ্চিত করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, আমরা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩ তম (জরুরী) সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্মারক নং খুপ্রবি/২৫৯/৬০ তাং ১১/৮/২০২৪ ইং মোতাবেক রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী কুয়েটের শিক্ষার্থীরা কুয়েট ছাত্রদলের ফর্ম বিতরণের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক দেয়। উক্ত মিছিলে কুয়েট ছাত্রদলের কর্মীরা হঠাৎ মিছিলে এসে ধাক্কা দিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয়। সেই প্রেক্ষিতে কুয়েট ছাত্রদল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। উক্ত হামলায় কুয়েটের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয় এবং চার ঘন্টা যাবৎ এই হামলা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আমাদেরকে কোন ধরনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। এই মর্মে আমরা সকল শিক্ষার্থীরা ভিসি প্রো-ভিসি’র পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবি উত্থাপন করি। আল্টিমেটাম দেওয়ার পরেও আমাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় নি¤েœাক্ত কারণে ভিসির অপসারণ দাবি করা হচ্ছেঃ রাজনীতি মুক্ত কুয়েট ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশে অপচেষ্টা জড়িত থাকা। ১৮ ফেব্রুয়ারী ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্তৃক আক্রমণ থেকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া। দেড়শতাধিক শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার পরও ব্যর্থতার দায় নিতে অস্বীকার করা। যথাপযুক্ত প্রমাণ থাকা সত্বেও চিহ্নিত কুয়েট ছাত্রদল এবং স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন কর্তৃক সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে শিকার না করা। ভিসি’র কাছে উক্ত হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রদানকৃত ৬ দফা দাবি পূরণের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পরও ৬ দফা দাবি সম্পূর্ণরূপে মেনে না নেওয়া। শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, অভিভাবকহীন ও অনিরাপদ কুয়েট ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চলমান করার জন্য অতিদ্রুত নতুন ভিসি এবং প্রো- ভিসি নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। যারা আমাদের পাঁচ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে অভিভাবকের দায়ভার নিবেন ।



