খুলনা শিশু হাসপাতালে শেখ বাড়ি সিন্ডিকেটের ওষুধ জালিয়াতি

# তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সম্পদ, ক্রয় বিক্রয় আইনগত দন্ডনীয়। প্যাকেটে ও ইঞ্জেকশনের গায়ে এমন নিষেধাজ্ঞা খোদিত রয়েছে। সায়ত্ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠান খুলনা শিশু হাসপাতালে এমন বিক্রয় নিষিদ্ধ দুই হাজার ভয়েল জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন সাপ্লাই দিয়েছেন ঠিকাদার। আবার বিক্রি করেছেন মার্কেট প্রাইসের প্রায় অর্ধেক দামে। পতিত সরকারের আমলে এ ঘটনা ঘটলেও হালে নতুন প্রশাসন হাসপাতালের দায়িত্ব নিলে এই ওষুধ কেলেংকারি ধরা পড়ে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আটকে গেছে ঠিকাদারের বিল। জানা গেছে, গত বছরের ৪ মে সাইফুল ইসলাম ট্রেড লিংক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ মেরোপেনেম ২৫০ এমজি ইন্টারভেনাম ইঞ্জেকশন সহ আরও কিছু সামগ্রী সরবরাহের কার্যাদেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। ১০ জুন তিনি দুই হাজার ভয়েল ইঞ্জেকশন সাপ্লাই দেন। যা ২২ তারিখে স্টোর শাখায় রিসিভ হয়। জুলাইয়ে রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতি ও আগস্টে পট পরিবর্তনের পর শিশু হাসপাতালের ম্যানেজমেন্টও পরিবর্তন আসে। কর্মরত ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের প্রমোশন, বেতন ভাতা বৃদ্ধি সহ নানা ইস্যুতে দীর্ঘদিন বিক্ষোভে টালমাটাল ছিল। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর সম্প্রতি আটকে থাকা বিল ছাড় করার সময় ইঞ্জেকশনের আন্ডাররেট রেট দেখে সন্ধেহ সৃষ্টি হয়। শিশু হাসপাতালের প্রশসিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) ডালিয়া সুলতানা জানান, মেরোপেনম ইঞ্জেকশন মার্কেটে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। ঠিকাদার রেট দিয়েছেন ২৪০ টাকা। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সন্ধেহ হলে যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। স্টোরে র্যানডম স্যাম্পেলিং করতে গিয়ে দেখা যায় গায়ে লেখা রয়েছে সরকারি সম্পত্তি। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, যারা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পান।
তদন্ত কমিটির সদস্য ডা: নুর এ আলম সিদ্দিকী তুহিন বলেন, রিসিভ কমিটিতে ডাক্তাররা দায়িত্বে থাকেন। তারা কার্টুনের বাইরে থেকে দেখে বলেছেন ঠিক আছে। স্টোরের লোকজন সাজাতে গিয়ে দেখে সরকারি ট্যাগ দেওয়া। সাপ্লাইয়ারের সাথে যোগাযোগ করলে বলেছেন, সরকারি হাসপাতাল, সেজন্য ইচ্ছা করে আমরা এটা লিখে দিয়েছি। যেহেতু জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং গুরুতর অসুস্থ শিশুদেরকে দিতেই হবে। তাই আমার বাধ্য হয়ে ব্যবহার করছি। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা: অনুপ কুমার দে বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা ঠিকাদারকে ওষুধ বদলে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে সরবরাহকারী ঠিকাদার খান সাইফুল ইসলাম বলেন, ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর আমরা ওষুধ কোম্পানীকে অর্ডার ফরোয়ার্ড করে দেই। তারাই সরাসরি হাসপাতালে সাপ্লাই দেয়। আমার হয়ে একমি কোম্পানি শিশু হাসপাতালে ইঞ্জেকশন সাপ্লাই দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ ওষুধ বুঝে নিয়েছে, কার্টুন খুলে ব্যবহারও করছে। এখন ৬ মাস পরে এসে বলছে ওষুধ পাল্টে দিতে হবে। চারশ’ টাকার ওষুধ ২৪০ টাকায় কিভাবে সরবরাহ করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সপ্লাই দিলে কোম্পানি ট্যাক্স, ভ্যাটে বড় ধরনের ছাড় পায়। সব কোম্পানি এই সুযোগ কাজে লাগায়। শিশু হাসপাতাল সরকারি না হলেও অনেকেই একে সরকারি মনে করেন।
ওষুধ ব্যবসায়ীদের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে সরবরাহের নামে একই ওষুধ ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি থেকে আন্ডার রেটে ডেলিভারি নেওয়ার পর সেই ওষুধ মার্কেট রেটে দোকানে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন একটি চক্র। অতীতে শেষ বাড়ির সাথে ভাগাভাগি করে মুনাফা লোটা এই চক্রটি ফ্যাসিবাদের পতনের পরেও একই দাপটে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।



