খুমেক হাসপাতালে ইন্টার্ণ চিকিৎসক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান

# পাঁচ দফা দাবিতে #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতারের ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা ৫ দফা দাবিতে তাদের কর্মবিরতির পাশাপাশি পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা শিববাড়ি মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি ও পরবর্তীতে সিভিল সার্জন অফিসে স্মারকলিপি প্রদান করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। টেন পাশ ডাক্তার মামা বাড়ি আবদার, ভূয়া ডাক্তারের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না, ‘প্রশিক্ষিত ডাক্তার চাই, শর্টকাট এর ভাত নেই, মানসম্মত চিকিৎসা চাই, এমএটি-ডিএমএফ বাতিল চাই ইত্যাদি শ্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন। তাদের দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর খুমেক হাসপাতাল শাখার সাধারাণ সম্পাদক ডা: আবু জাফর মো: ছালেহ (পলাশ) বক্তৃতা প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি একজন ডাক্তার হিসেবে অত্যন্ত লজ্জিত এবং লজ্জাবোধ করছি। কিন্তু আসলে দু:খের বিষয় যারা এদেশের নীতি নির্ধারক এদের লজ্জা হয় না, এদের দুই কান কাটা। এরা না বোঝে ডাক্তার কি জিনিস, না বোঝে ম্যাটস কি জিনিস, না বোঝে সেকমো কি জিনিস, না বোঝে ডিএমএ কি জিনিস, না বোঝে হেলথ অ্যাসিসস্টেন্ট কি জিনিস। এরা মনে করেন স্বাস্থ্য মনে হয় স্বাস্থ্য। আসলে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হওয়া উচিত স্বাস্থ্য লোকের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার আরেক জনের সম্পর্ক ভালো তারে উপদেষ্টা বানিয়ে দিলাম, আমার বাসায় কাজ করে আমার চাকর আমি উপদেষ্টা বানিয়ে দিলাম। আমার পেট বাচানোর জন্য উপদেষ্টা বানায় দিলাম। এদেশে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে উপদেষ্টা হওয়া। আমার সাথে সম্পর্ক ভালো, আমি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করি, আমি যাকে যা খুশি বানাবো, যা ডিসিশন দেবে তাই আমরা মেনে নেবো। এদেশে মানুষ বাস করে না। বাস করেন শুধু আপনারা, আর বাস করেন সেকমোরা। ডাক্তার কি জিনিস আপনারা বোঝেন? সবচেয়ে ভালো স্টুডেন্ট, সব চেয়ে মেধাবী স্টুডেন্ট ডাক্তার হয়। আপনারা কান খুলে শুনে রাখেন- দেশের মানুষ কিছু হলে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কথা বলে। কেনো বলে কারণ ওরা হতে পারে নাই। সেই যোগ্যতা নেই। তিনি বলেন, আপনারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বানায়ছেন। চিতিৎসা আমরাই দেই। ওখানে কতগুলো পোস্ট সৃষ্টি করেছেন স্যাকমো নামে। এখন সাধারণ লোকজন না বোঝে স্যাকমো কি জিনিস, না বোঝে চিকিৎসক কি জিনিস না বোঝে মেডিকেল অফিসার কি জিনিস। এরা মনে করে স্যাকমোরাই হচ্ছে মেডিকেল অফিসার তারাই হলো বড় ডাক্তার তারাই হচ্ছে বড় চিকিৎসক। আসলে চিকিৎসকতো এরা না। আমাদের দেশে অপচিকিৎসা কেনো হয়। আমাদের দেশে অপচিকিৎসা হয় এদের হাত দিয়েই। আমরা এটা বুঝতে পারি না। যখন বুঝতে পারি তখন করার কিছু থাকে না। সে সময় এসে বুঝতে পারি কে ডাক্তার কে ডাক্তার না। কোন ওষুধ খাওয়ার দরকার ছিলো, কোন ওষুধ খাওয়ার দরকার ছিলো না, কেনো এতো এন্টিবায়োটিক খাচ্ছি। কারণ এসব অপচিকিৎসার কারণে। ডাক্তার যে পদবী শুধুমাত্র এমবিবিএস পাশ করা, ডেন্টাল বিডিএস পাশ করা এরাই শুধু ডাক্তার লিখতে পারবে অন্য কেউ পারে না। পরে
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ণ ডক্টরস আসোসিয়েশন (আইডিএ) সভাপতি ডাঃ আরাফাত হোসেন বলেন, আমাদের ৫দফা দাবি নিয়ে শিববাড়ি মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করি। পরবর্তীতে খুলনার ৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিনিধিরা আমাদের দাবি বিষয়গুলো নিয়ে সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করি। ওই সিভিল সার্জন স্যার অফিসে না থাকায় তার দপ্তরের জমা দিয়ে আসি।
তাদের ৫ দফা দাবির সমূহ মধ্যে রয়েছে : এমবিবিএস ও বিডিএস ব্যতীত কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না” বিএমডিসি এর উক্ত আইনের বিরুদ্ধে করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে ও বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রীধারীদের দিতে হবে। ২০১০ সালে হাসিনা সরকার ম্যাটসদেরকে বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করেছে, এই ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওটিসি ড্রাগ লিস্ট আপডেট করতে হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি ড্রাগ লিস্ট এর বাইরে ড্রাগ প্রেসকিবেল করতে পারবে না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি লিস্ট এর বাইরে কোন ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে: দ্রুত ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে সকল শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করে পূর্বের মতো সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিবছর ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ডাক্তারদের বিসিএস এর বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে।
সকল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সমূহ বন্ধ করে দিতে হবে। ইতোমধ্যে এসএসসি পাশ করা (ম্যাটস) শিক্ষার্থীদের স্যাকমো পদবি রহিত করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে এবং চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।



