জান ও মালের কুরবানি দিয়ে দ্বীন কায়েমের রাস্তায় টিকে থাকতে হবে : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

# খুলনা জেলা জামায়াতের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আমীর/সভাপতি সম্মেলন #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রশ্নে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে, দূর্ণীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। রাজনীতি করি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য। জামায়াতে ইসলামী শুধু জামায়াতের কর্মীদের ভালোবাসে না সমগ্র দেশের মানুষকে ভালোবাসে, শুধু মুসলিমদের ভালোবাসে না সকল ধর্মের মানুষকে ভালোবাসে। এটাই জামায়াতে ইসলামী। মানুষ ফ্যাসিস্ট হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছে কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছেন। ইতিহাস কোন জালেমকে ক্ষমা করে না। ফ্যাসিবাদ কখনো টিকে থাকতে পারে না। তাদের নিকৃষ্ট পতন হয়। পুলিশের আতঙ্কে আমাদের গাড়ির জানালা বন্ধ করে চলতে হতো। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আজ তাদেরকে বিতাড়িত করেছেন, আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া করতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য বিরোধীদের পক্ষ থেকে আমাদের উপর আঘাত আসবে, আমাদেরকে আহত করা হবে এবং প্রয়োজনে শহীদ হতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। তারপরও আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করে ইসলামী আন্দোলনের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমাদেরকে জান ও মালের কুরবানি দিয়ে দ্বীন কায়েমের রাস্তায় টিকে থাকতে হবে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আমীর/সভাপতি সম্মেলন-২০২৫ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ও জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম। এ সময় জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, আশরাফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নায়েবে আমীর আরও বলেন, আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হলে সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। সামাজিক কাজ বেশি বেশি করতে হবে। সামাজিক কাজ আমরা যত বেশি করব সংগঠন তত বেশি মজবুত ও সম্প্রসারিত হবে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড দায়িত্বশীলদেরকে মানোন্নয়ন করে ধারাবাহিকভাবে মানে উন্নীত হতে হবে। পরিবারের সকল সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনকে সংগঠনভূক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। আমাদেরকে আখিরাতমুখী জীবন-যাপন করতে হবে। জামায়াতে নামাজ আদায় করতে হবে। জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে হবে। বেশি বেশি সালামের প্রচলন ঘটাতে হবে। ঋণমুক্ত জীবন-যাপন করতে হবে। সর্বোপরি তিনি মহান রবের সাহায্য কামনায় রাতের ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, সমাজে লোক তৈরি, জনমত গঠন এবং আল্লাহর সাহায্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে হবে। এ জন্য তিনি ইসলামী আন্দোলনের সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদেরকে আত্ম-গঠন ও মানোন্নয়নের কাজ করতে হবে এবং তাদেরকে সত্যের সাক্ষ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পরিবার গঠন ও সমাজ গঠনে দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।



