স্থানীয় সংবাদ

কেসিসি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাঃ সম্পাদকের চাকুরিচ্যুত

#দায়িত্ব অবহেলায় ৫নং ওয়ার্ড ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্টকে শোকজ #

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সাঃ সম্পাদক উপ সহকারি প্রকৌশলী আবুল হোসেন মৃধাকে (মাস্টাররোল) চাকুরি চ্যুত করা হয়েছে। তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনার বাড়ি ভাংচুর মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে কেসিসির ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট (কার্য সহকারি) হাবিবুর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে। আদালতের পিপি এড. চৌধুরি তৌহিদুর রহমান তুষার বলেন, কেসিসির প্রকৌশলী আবুল হোসেন মৃধা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনার বাড়ি ভাংচুর মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। তিনি হাই কোর্টে জামিনের জন্য যান। এ সময় হাই কোর্ট তাকে জামিন না দিয়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নি¤œ আদালতে আতœসমার্পন করার জন্য আদেশ দেন। সেই আদেশ মতে আবুল হোসেন বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। তার পক্ষে ছিলেন এড. বিএম ফারুখ। যার মিস কেস নং-১৮২/২৫। জামিনের বিরোধীতা করেন পিপি তুষার। শুনানীয়ান্তে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। এসব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেন পিপি চৌধুরি তুষার। কেসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, আবুল হোসেন মৃধা কেসিসির পূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হলেও তিনি ছিলেন মাস্টাররোল কর্মচারী। পতিত সরকারের শাসন আমলে তিনি বেপরোয়া চলাফেরা করতেন। অফিস না করেই নিয়মিত বেতন নিতেন। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের তিনি পাত্তা দিতেন না। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মশিউজ্জামানের সাথে একাধিকবার করেছেন ঔদ্যোত্তপূর্ণ আচরণ। যা চাকুরিরবিধিমালা অনুযায়ী তার চাকুরি থাকার কথা নয়। তারপরও কেসিসির সাবেক প্যানেল মেয়র ও আ’লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম মুন্নার জামাতা হওয়ার কারণে সব নিয়ম কানুন ছিল তার পকেটে। কেসিসির প্রধান নির্বাহী লস্কর তাজুল ইসলাম বলেন, যেহেতু আবুল হোসেন মৃধা ভাংচুর মামলায় কারাগারে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে চাকুরি চ্যুত করা হয়েছে। কারণ তিনি মাস্টার রোল কর্মচারি। এদিকে আরেক ক্ষমতাধর ওয়ার্ক এ্যাসিস্ট্যান্ট হাবিবুর রহমান (মাষ্টারবোল) দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে কর্তৃপক্ষ শোকজ করেছেন। তিনি ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডে দীর্ঘ দিন ধরে ওই পদে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় একটি চক্রের সাথে মিলেমিশে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি তার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কোন আদেশ নিষেধ শুনছেন না। এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাকে শোকজ করা হয়। ওই শোকজে উল্লেখ করা হয়, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের সাংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের মন্তব্যের আলোকে দেখা যায় আপনি (হাবিব) ৪ও ৫নং ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও আপনাকে যথাসময়ে কাজের সাইটে পাওয়া যায় না। ফোন দেয়া হলেও আপনি ফোন রিসিভ করেন না। এমনকি পরবর্তীতে কল ব্যাক করার নুন্যতম প্রয়োজন মনে করেন না। ঢালাইসহ যে কোন প্রোগ্রাম দিলেও আপনাকে যথাসময়ে সাইডে উপস্থিত পাওয়া যায় না। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করা অসদাচরণ তথা চাকুরী বিধি পরিপন্থি। এমতাবস্থায়, কর্তব্যকর্মে অবহেলা ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে কেন আপনার বিরুদ্ধ আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার স্বপক্ষে তিন দিনের মধ্যে কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হলো। গত ১৭ ফেব্রুয়ারী কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button