স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই ফিরে এলো কেসিসি

# সাবেক মন্ত্রীর লোকের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন #

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান টিম খালিশপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই ফিরে এলেন। বুধবার বেলা ১২টার দিকে খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্কে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা ধরনের মন্তব্য শোনা যায়। আ’লীগ নেতা মিরাজের এ অবৈধ স্থাপনা দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ভাড়া দিয়ে নিজ পকেট ভরছেন। টিমের সদস্য ইমতিয়াজ জানান, তারা খালিশপুর লাল হাসপাতাল সড়কে নিয়মিত ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। কয়েকটি স্থাপনা অপসারণের পর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্কের সামনে আসলে পার্কের ভিতরে কোণায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ সময় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা ওই স্থাপনা অপসারণ না করে আবেদনকারীকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে আসেন। কেসিসির এষ্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দীন বলেন, ওই অবৈধ স্থাপনার মালিক মিরাজকে একাধিকবার বৈধতার কাগজপত্র চাওয়া হলে তিনি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর তাকে একাধিবার নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বললে তিনি কর্ণপাত করেননি। তারপরও ম্যাজিস্ট্রেট তাদের আবেদনকে মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন। অবৈধ স্থাপনার মালিককে সময় দেয়া নিয়ে উপস্থিত এলাকাবাসী নানা ধরণের মন্তব্য করেন। কারণ তিনি আ’লীগের সময় প্রভাব বিস্তার করে এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে রাখতেন। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের কাছের লোক ছিলেন। ১৫ আগষ্টে তিনি গরীবের ওএমএস চাউল দিতেন কাঙ্গালী ভোজ করতে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে আ’লীগ-ছাত্রলীগ যুবলীগের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। আর সেই ব্যক্তি এক বুক ফুলিয়ে অবৈধ স্থাপনা দিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পার্ক কর্তৃপক্ষ বলেন, আ’লীগের সময় মিরাজকে তার স্থাপনা সরাতে বললে তিনি কর্নপাত করেননি। বিষয়টি কেসিসিকে বললে সাবেক মেয়র তেমন আগ্রহ দেখাননি। কারণ মিরাজ সাবেক প্রতিমন্ত্রী লোক হওয়ায় সবাই ছিলেন অসহায়। ৫ আগস্টের পর আবার কেসিসির কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করলে তারা অভিযানে আসলেও স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় তারা হতাশ। সাবেক প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের লোক এই মিরাজের খুটির জোর কোথায়। তারা বলেন, মিরাজ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঠেকাতে বিএনপির স্থানীয় কতিপয় নেতা-কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে দেখা যায়। বিষয়টি বিএনপির নেতাদের জন্য খুবই দৃষ্টিকটু বলে তারা মনে করেন। তবে টিমটি খালিশপুর ক্লিনিকের মোড়, লাল হাসপাতাল মোড়, ময়লাপোতা মোড় ও রূপসা পুলিশ বক্সের পাশে কয়েকটি স্থাপনা অপসারণ করে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেসিসির একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ স্থাপনাকারী মিরাজ বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের দিয়ে তদ্বির করেছেন। ছাত্রদের অনুরোধে তারা উচ্ছেদ না করে ১৫ দিনের সময় দিয়ে এসেছেন। এরই মধ্যে মিরাজ তার স্থাপনা সরিয়ে নিবেন। তা না হলে কেসিসি স্থাপনা অপসারণ করবে বলে তিনি জানান। তবে মিরাজের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button