স্থানীয় সংবাদ

রমজানে ও কমেনি চালের দাম : ভারত থেকে সাড়ে দশ হাজার টন চাল আমদানি

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ মাহে রমজান মাস শুরু হলেও কমেনি চালের দাম। এ দিকে গেল কয়েক সপ্তাহ যাবৎ প্রতিদিন বাড়ছে চালের দাম। গেল এক মাসের বেশি সময় যাবৎ দফায় দফায় বেড়েছে চালের দাম। এতে করে ভাল নেই নি¤œ ও মধ্য আয়ের মানুষেরা। এছাড়া রমজানের শুরুতে বেড়েছে সবজির বাজারও। এ দিকে চালের বাজার সহনশীল রাখতে টিসিবি এবং ওএমএস থেকে পরিবার প্রতি ৫ কেজি চাল দিচ্ছে ৩০ টাকা প্রতি কেজি দরে। পাশাপাশি গেল ২৫ শে ফেব্রুয়ারী ভারত হতে সাড়ে দশ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানি করেছে বাংলাদেশ। যা ইতোমধ্যে চট্রগ্রাম বন্দরে রয়েছে। যা নমুনা পরীক্ষা করে খালাশ করার অপেক্ষায়। এর আগে গেল ৩১ শে জানুয়ারী মিয়ানমার হতে ২৩ হাজার টন ও ভারত হতে সাড়ে সাত হাজার টন চাল আমদানি করেছে সরকার। এ বিষয়ে কথা হয় খুলনার দৌলতপুর বাজারের পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা মোহামদউল্লাহ এর সাথে তিনি বলেন, গেল প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চালের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আবার প্রকার ভেদে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে, স্বর্ণা চাল এর দাম বাড়ানো হয়নি। আর মোটা চাল এর দাম কেজি প্রতি দুই টাকা কওে বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণ হলো মিলারদের কাছে ধান সংকট। এছাড়া গেল বছর বন্যায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতিসহ অনেক ধানের মিলে মজুদ চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে এর প্রভাব পড়েছে। মুলতঃ তখনই চালের দাম বাড়বে যখন চাহিদার তুলনায় বাজারে চালের সরবারাহ কম থাকে। তবে আবার সব কিছু আগের জায়গায় চলে আসবে নতুন ধান উঠার পর। এ বিষয়ে কথা হয় বেসরকারী চাকুরীজীবী মোঃ হাসান এর সাথে তিনি বলেন, ভাই টিসিবি থেকে মাসে কখনও একবার বা দুইবার চাল দিচ্ছে ৫ কেজি, এছাড়া ওএমএস থেকে ডিলাররা যে চাল দিচ্ছে তার থাকে লম্বা লাইন ব্যাক্তি মালিকানাধীন অফিসে কাজ করে লম্বা লাইন দিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চাল উত্তলোন করতে কষ্ট হয়। বাজারে দেখেন গেল দেড় মাস যাবৎ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। আমরা নৌ বাহিনীর রেশনের এসিআই প্যাকেট জাত সিদ্ধ চাল গেল মাসে ক্রয় করেছি ৭ কেজির প্যাকেট ৪৭৫ টাকা মানে প্রতি কেজি চাল ৬৭ টাকা ৭১ পয়সা করে প্রতি কেজি। এমাসে একই প্যাকেটের ৭ কেজি প্যাকেটজাত চালের দাম ৫২০ টাকা এর মানে প্রতি কেজি চালের দাম বর্তমান ৭৪ টাকা ২৮ পয়সা করে। তাহলে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৭ টাকা এর মানে ৭ কেজি প্যাকেটের চালের দাম প্যাকেট প্রতি বেড়েছে ৪৮ টাকা করে। আমরা কি বলব খুচরা বিক্রেতারা বলে পাইকারী বাজারে দাম বেশি আমাদের কিছু করার নেই। আর পাইকারী ব্যবসায়িরা বলে মিলারদের কাছে ধান সংকট। এভাবে চলছে চালের বাজারে বড় ব্যবসায়িদের চালবাজি। এ বিষয়ে খুলনা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের উপঃ পরিচালক মোঃ সেলিম বলেন, আমরা গোয়েন্দা নজরে রাখছি কেউ অতিরিক্ত চাল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের বাজার অস্থির করছে নাকি। তবে নতুনভাবে সাড়ে দশ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়েছে এগুলো বাজারে সরাবারহ হলেই দামের চালের কমবে বলে আশাবাদি।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button