স্থানীয় সংবাদ

খুলনা নগরবাসীকে মশার যন্ত্রণা থেকে বাঁচাতে কঠোর অবস্থানে কেসিসি : ছুটি বন্ধ

# নগরীতে মশারি মিছিল #
# কেসিসির ওষুধের মান পরীক্ষামূলক যাচাই #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা নগরবাসী মশার যন্ত্রণা থেকে বাঁচাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। মশা থেকে পরিত্রান পেতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনও নড়ে চড়ে বসেছে। আগে নগরবাসী মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হবে তারপর সকলের ছুটিছাটার ব্যাপারে ভেবে দেখা হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রশাসক। এদিকে থেমে নেই নাগরিক সংগঠনগুলো। তারা নাগরিক সমাজের ব্যানারে শনিবার সকালে নগরীতে মশারী মিছিল করেছে। এদিকে কেসিসি ওষুধ দেয়ার পরও কেন মশা মরছে না। তার জন্য নতুন করে কোম্পানী পরিবর্তন করে নতুন মশার ওষুধ শনিবার সকাল থেকে নগরীতে ছিটানো শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সকাল ১১টার দিকে কেসিসির গ্যারেজে মশক নিধন ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করা হয়। কেসিসির সচিব শরীফ আসিফ রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম এ গুনগত মান কার্যক্রমে অংশ নেন। সাথে ছিলেন কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলী আঃ আজিজ, ভেটেরিনারী অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ^াস, কনজারভেন্সী অফিসার মোঃ অহিদুজ্জামান খান, সহকারি কনজারভেন্সী অফিসার রকিব, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান সুমন, কেসিসি কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা, এমআর এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার ড. মাহাবুবুর রহমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি মোস্তফা শাহরিয়ার শামিম, খান মেহেদী হাসান, কামরুল হাসান, কনজারভেন্সী শাখার আনোয়ার হোসেন, নুরুজ্জামান সুমন প্রমূখ। এ সময় কেসিসি কর্তৃক সংগৃহীত লার্ভা থেকে ফুটানো মশা মশারীর মধ্যে রেখে নতুন ওষুধ স্প্রে করা হয়। ওই ওষুধের নাম সাইভার ম্যাথ্রিন। ফগার মেশিন দিয়ে ওই ওষুধ ছিটানোর পর মশার মধ্যে ওষুধে ৯৫.৫৮% মশা মারা যায়। ওই পরীক্ষার সময় মোট মশার সংখ্যা ছিল ২০৪টি, স্প্রে করার পর মারা যায় ১৯৫টি। ৯টি মশা মারা যায়নি। তবে এটা বদ্ধ অবস্থায় স্প্রে করার কারণে ওষুধের গুণগত মান পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি যাচাই বাচাই টিম। তারা আগামী সোমবার মাঠে গিয়ে উড়ন্ত মশার ওপর ওষুধ স্প্রে করার পর ওষুধের মান নিশ্চিত করবে বলে টিম প্রধান জানান। অন্য দিকে মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনাসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এক মশারি মিছিল ও সমাবেশ শনিবার বেলা ১১ টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি পিকচার প্যালেস মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। খুলনা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আ ফ ম মহসীন এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার এর সঞ্চালনায় এতে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন- গণ সংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, নাগরিক নেতা মিনা আজিজুর রহমান, মিজানুর রহমান বাবু, জাসদ নেতা রেজাউল করিম, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের চেয়ারম্যান শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান মুন্না, সিপিবি নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, আবু আসলাম বাবু, কবি সৈয়দ আলী হাকিম, কবি নুরুন নাহার হীরা প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহানগরীর মশা নিধনে খুলনা সিটি কর্পোরেশন সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মশার উপদ্রব স্থায়ীরূপ লাভ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ সঙ্কট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে কারণে শুধু রাতেই নয় দিনে রাতে সবসময় মশার উপদ্রবে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজন ড্রেন, খাল, পুকুর, ডোবা, জলাশয়, নর্দমা, ঝোঁপ-ঝাঁড় ইত্যাদি নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মানসম্মত ভেজাল বিহীন কীটনাশক পরিকল্পিত উপায়ে ছিটানো। এক্ষেত্রে প্রয়োজন মশার প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণপূর্বক উহা ধ্বংস করা এবং লার্ভা বিনষ্টে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। অন্যথায় মশাবাহী রোগের কারণে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে বক্তারা আশংকা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নগরবাসীকে সাথে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে সমাবেশে জানানো হয়। অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাসে মশার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে কেসিসি কঠেঅর অবস্থান নিয়েছে। নগরবাসী যাতে কোনভাবেই মশা নিয়ে অভিযোগ না বলতে পারে সে জন্য কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রশাসক। তিনি খুলনা মহানগরীতে মশক নিধনকল্পে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে নগর ভবনে ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কঞ্জারভেন্সী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় প্রশাসক জনাব মো: ফিরোজ সরকার এ নির্দেশ প্রদান করেন। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে জরুরী ভিত্তিতে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় পবিত্র রমজান মাসে কঞ্জারভেন্সী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং খুলনা ওয়াসা কর্তৃক নতুনভাবে রাস্তা খনন বন্ধ এবং চলমান কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় মহানগরীকে দু’টি জোনে ভাগ করে প্রতিটি ওয়ার্ড এলাকায় দিনের পূর্বাহ্নে মশক প্রজনন ও ডিম ধ্বংসে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে উড়ন্ত মশক নিধনে এডাল্টিসাইড স্প্রে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় প্রশাসক মশক নিধন কাজ সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন এবং এ কাজে কারো শিথিলতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে প্রশাসক হুশিয়ারী দেন। মশার বংশ বিস্তার রোধে কেসিসির প্রচেষ্টার পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান। সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও মনিটরিং করার জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মৌসুমী আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে মশক প্রজনন বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়কে সামনে রেখে সম্প্রতি মশক নিধনকল্পে নতুনভাবে ঔষধ ক্রয় করা হয়েছে। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম, সচিব শরীফ আসিফ রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো: আব্দুল আজিজ, রাজস্ব অফিসার এসকেএম তাছাদুজ্জামান, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান ও অহিদ্জ্জুামান খান, এষ্টেট অফিসার গাজী সালাহউদ্দীন, সিনিয়র সাংবাদিক কামরুল আহসান, খলিলুর রহমান সুমন, সহকারী কনজারভেন্সী অফিসার জিয়াসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সহকারী কঞ্জারভেন্সী অফিসারবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রশাসক মশক নিধনে ব্যর্থতা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে যান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button