খুলনার মোড়ে মোড়ে বাহারি ইফতার

ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়
মোঃ আশিকুর রহমান : রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের সু-সংবাদ নিয়ে আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। মহিমান্বিত এই মাস মুসলমানের জন্য নৈতিক প্রশিক্ষণ ও আত্মশুদ্ধির। রবিবার (২ মার্চ) শুরু হয়েছে রমজানের প্রথম দশক রহমতের প্রথম দিন। মাহে রমজানকে প্রথম রোজাকে ঘিরে রবিবার খুলনার মোড়ে মোড়ে বাহারি ইফতারের পরশা সাজিয়ে বসেছে মৌসুমি ইফতার বিক্রেতারা, পাশাপাশি আয়োজনের কমতি নেই খুলনার প্রসিদ্ধ হোটেল-রেস্তোরাগুলোতে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডাকবাংলা, শিববাড়ী, ফেরীঘাট, নিউমার্কেট, ময়লাপোতা, সাতরাস্তার মোড়, গল্লামারী, নিরালা, জিরোপয়েন্ট, রুপসা, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর দৌলতপুর, রেলিগেট, মানিকতলা, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনি এলাকাসহ স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরা ও মৌসুমী ইফতারের দোকানে বিক্রি হচ্ছে বাহারি ইফতারি। এসব ইফতারের মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে ছোলা, পিয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ডিমের চপ, চিকেন চপ, শাহী জিলাপী, রেশমী জিলাপী, শাহী হালিম, ফ্রটুস্ জুট, ফিরনি, লাচ্ছি, ফালুদাসহ হরেক স্বাদের ইফতারী বিক্রি করছে। ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন, ছোলা প্রতিকেজি ১৪০-১৫০ টাকা, পিয়াজু প্রতি পিস ৫-৮ টাকা, বেগুনি ৫-৮ টাকা প্রতি পিস, আলুর চপ ৫-৮ টাকা, ডিমের চপ বড় প্রতি পিস ১৫-২০ টাকা, মাঝারী প্রতি পিস ১০টাকা, চিকেন চপ প্রতি পিস,২০-৩০ টাকা, চিংড়ি চপ প্রতি পিস ২০-৩০ টাকা, বুন্দিয়া প্রতিকেজি ১৮০-২০০ টাকা শাহী জিলাপী প্রতিকেজি ২০০-২২০ টাকা, রেশমী জিলাপী প্রতি কেজি ৩২০-৩৫০ টাকা, শাহী হালিম প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা, হাফ কেজি ১৫০-২০০ টাকা, ফিরনি প্রতি বাটি ৫০ টাকা, লাচ্ছি প্রতি গ্লাস ৮০টাকা, ফালুদা প্রতি গ্লাস দরে ১০০/১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে দামের কিছু তারতম্য দেখা গেছে।
পথচারী আব্দুর রহিম জানান, শহরের বিভিন্ন জায়গায় মাহে রমজান উপলক্ষে বাহারি ইফতার বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম একটু বেশি। প্রতিদিন বাড়ীতে ইফতার তৈরী করা না । তাই ইফতারির আগে বাইরে থেকে ইফতার কিনে নিয়ে যায়। বাড়ীতে স্ত্রী, ছেয়ে মেয়ে রোজা রাখে।
চাকরিজীবী ফারুক হোসেন জানান, স্ত্রী বাড়ীতে কিছু ইফতারি তৈরী করে। আমি অফিস হতে ফেরার পথে হালিম, লাচ্ছি, ফলফলাদি কিনে নিয়ে আসি। রোজার মাস খুব ভালো লাগে, বিশেষ করে ইফতার পূর্ব মুর্হুতে।
শামিম নামের রোজাদার জানান, বাড়ীতে আমার স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন এবং আমি রোজা রাখি। রোজার মাসে সবাই সবার জায়াগা হতে ইবাদত বন্দেগী করুক, এটা আমি চাই। তাই পরিবারে ইফতারির বাড়তি কষ্ট হোক চাই না , বিধায় অফিস হতে ফেরার পথে হোটেল হতে প্রয়োজন অনুসারে পরিবারের জন্য ইফতার কিনি। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর ইফতারী দাম বেশি মনে হচ্ছে।
দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতির সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী মোঃ আশিকুর রহমান শুভ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমার হোটেল শামিম এন্ড রেস্টুরেন্টে ইফতার বাজার ও পার্টির ব্যবস্থা করেছি। মান সম্মত ইফতার সামগ্রী তৈরী করা হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে বাহারি ইফতারি বিক্রি করছি। ইফতারির সামগ্রীর পাশাপাশি ফলের দোকানেও ছিল নজরকাড়া ভীড়। হোটেল-রেস্তোরার ইফতারীর পাশাপাশি ক্রেতাদের আপেল, আঙুর, কমলা, মালটা, খেজুর, পেয়ারা, কলা, তরমুজসহ প্রভৃতি ফল কিনতে দেখা গেছে।
ফল বিক্রেতা এনামুল জানান, খেজুর দিয়ে ইফতারী করা সুন্নাত। তাই খেজুর যেন সবাই বাধ্যতামূলক কিনছে। খেজুরের পাশাপাশি অনেকেই দেশি-বিদেশী ফল ও কিনছে। ক্রেতা সাড়া ভালো। ফলের পাশাপাশি মিষ্টান্ন দোকানগুলোতে ভালো বেচাকেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা। মুসলিম উম্মেহার আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান, যা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত মুসলিমের উপর রহমতের মাস। তিন দশক নিয়ে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের প্রাপ্তির মাস রমজান। নগরবাসী প্রাপ্তি যেন আল্লাহপাক সুস্থভাবে সকলকে রোজা রাখার তৌফিকদান করেন, সেই সাথে সঠিক ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নেন। আর মার্জনা করেন সকল গুনাহ্রে।



