স্থানীয় সংবাদ

মিশ্র ফলের চাষ করে সফলমণিরামপুরের হাফেজ বেলাল

মোঃ আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ নানা জাতের দেশী-বিদেশী ফলের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মাছনা খানপুর গ্রামের হাফেজ বেলাল হুসাইন। তার সফলতার গল্পটি বেশ চমকপ্রদ। প্রান্তিক চাষী নজরুল ইসলাম ও গৃহিনী মাতা আলেয়া বেগম চার ছেলে মেয়ের মধ্যে বেলাল সবার বড়। অদম্য মেধাবী বেলাল হুসাইন একাধারে কোরআনের হাফেজ। পাশাপাশি জেনারেল ও মাদরাসা উভয় লাইনে পড়ালেখা করে অনার্স ডিগ্রি ও কামিল পাশ করেছেন। উচ্চ শিক্ষিত বেলালের ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন নিজে স্বনির্ভর হবেন এবং কর্মজীবি মানুষের জন্য কিছু করবেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ইচ্ছা শক্তি ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে বিগত পাঁচ বছর আগে দুই বিঘা জমি লীজ নিয়ে মাল্টা লেবুর চাষ শুরু করেন। মাল্টা বাগানে মিশ্র চাষ হিসেবে কুল ও পেয়ারার চাষ করেন। প্রথম আবাদেই খরচ-খরচা বাদে লাভের মুখ দেখেন বেলাল। এতে তার উৎসাহ দ্বিগুন বেড়ে যায়। এরপর ৫বিঘা জমি লীজ নিয়ে শুরু করেন ড্রাগন ফলের চাষ। তাতেও বেশ লাভবান হন তিনি। সেই থেকে একের একর পর এক নতুন নতুন ফলের আবাদ শুরু করেন বেলাল। গড়ে তোলেন “শুকরিয়া এগ্রো ফার্ম”। এবার তিনি ঝুঁকে পড়েন বিভিন্ন বিদেশি ফলের দিকে। আঙ্গুর,স্ট্রবেরি, আনার, ত্বীনফল, মালবেরি,লংগান, বারমাসি আম,বারমাসি মাল্টা,বারমাসি লেবু, বিভিন্ন জাতের রঙিন আম, সাইট্রাসের ন্যায় বিভিন্ন জাতের আবাদ নিয়ে কাজ করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের চারা উৎপন্ন করে তা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি। মিশ্র ফলের পাশাপাশি শসা, টমেটো, বিভিন্ন জাতের কপি, বেগুন, মরিচ ইত্যাদির চাষ করে থাকেন। গত বছর ২০ শতক জমিতে রাবি-৩ ও আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল স্ট্রবেরি চাষ করেন। এছাড়া অন্ততঃ ২০ জাতের আঙ্গুর চাষ করেছেন। আঙুরের প্রতিটি জাতে ফুল-ফল আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে তার শুকরিয়া এগ্রো ফার্মে প্রতিদিন ১০/১৫ জন শ্রমজীবি মানুষ কাজের সুযোগ পাচ্ছে। মিশ্র ফল চাষী হাফেজ বেলাল বলেন, আমি যখন যে ফলের চাষ করেছি তাতেই সফলতা পেয়েছি। মাল্টার সাথে কুল ও পেয়ারাতে লাভবান হয়ে ড্রাগনের আবাদ করি তাতেও লাভবান হয়েছি। স্ট্রবেরি চাষেও লাভবান হবো বলে আশা করছি। এবার অন্ততঃ ২০জাতের আঙুর চাষ করেছি, ফুল-ফল আসতে শুরু করেছে। আঙ্গুর চাষে ও সফলতা আসবে বলে দৃঢ় বিশ^াস। স্থানীয় মাছনা গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক সায়ফুল আলম বলেন,প্রবল ইচ্ছা শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করা যায়,তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো হাফেজ বেলাল। তিনি বেকার যুবকদের জন্য একজন অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার বলেন, এখানকার মাটি,জলবায়ু,পরিবেশ ফল চাষের জন্য উপযোগী। এখানে বানিজ্যিক ভিত্তিতে ‘মালটা, ড্রাগন, কুল, পেয়ারা, আমসহ বিভিন্ন ফলের চাষ হচ্ছে। হাফেজ বেলাল একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ। তিনি নতুন নতুন ও মিশ্র ফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তার স্ট্রবেরি দেখতে চমৎকার ও বেশ সুস্বাদু । তিনি বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর ও অন্যান্য বিভিন্ন ফলের আবাদ করেছেন।কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button