“সমাজে নারীর সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নারী নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কর”

# আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় মহিলা ফোরাম নেতৃবৃন্দ #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা কমিটির উদ্যোগে ৮ মার্চ বেলা ১১টায় সংগঠনের খালিশপুর থানা কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের খুলনা জেলা সভাপতি কোহিনুর আক্তার কনার সভাপতিত্বে এবং সদস্য খাদিজা বেগমের সঞ্চালনায় সভায় আলোচনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সদস্য আব্দুল করিম, মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা সহ-সভাপতি অপর্ণা মজুমদার, সদস্য কুলসুম বেগম, আনোয়ারা বেগম, মিনু বেগম, রাজিয়া বেগম, আলেয়া বেগম প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও আমাদের দেশে নারীরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ধনিক শ্রেণীর লুটপাটের শাসনব্যবস্থায় বাংলাদেশে নারীর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা, নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশে নারীরা পরিবারে, সমাজে, কর্মক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইনগতভাবেই বৈষম্যের শিকার। নারীর উপর শোষণ-নির্যাতন, জুলুম ও নিরাপত্তাহীনতা অকল্পনীয় আকার ধারণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে নারী ও পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবে। যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ সামাজিক ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। মাগুরায় ৭ বছরের নারী শিশুকে শ্বশুর ও ভগ্নিপতি মিলে যেভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে তা আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইভ টিজিং, যৌন সহিংসতা, নির্যাতনে বাংলাদেশে সারা বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। শিল্প, কৃষিসহ সেবাখাতে নারী শ্রমিক পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে কম মজুরি পায়। সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তথাকথিত ‘দারিদ্র্য বিমোচন’ স্লোগানের মাধ্যমে চড়া সুদে এনজিও-র ক্ষুদ্র ঋণের জালে দেশের গরীব নারীদের আটকে ফেলা হয়েছে। এর পাশাপাশি যুবকসহ লাখ লাখ নারীদের বেশী বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও দালালদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। প্রবাসে নারীরা যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের শাসক সরকারগুলো নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও দেশে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি শরীয়াহ আইন কানুনের অজুহাতে নারীদের নির্যাতন করছে। গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ ও স্বীকৃতি এখনও দেয়া হয়নি। সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী পুরুষের সমঅধিকার নেই। নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; ইভ টিজিংসহ সকল ধরনের যৌন সহিংসতা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কর্মক্ষেত্র, পরিবার, সকল পেশার ঘরে বাইরে সর্বত্র নারীর উপর সকল ধরনের বৈষম্য বন্ধে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সাথে নারীর অধিকার সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর, সহিংসতা নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।



