নিজ পরিবারের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করায় মায়ের নিন্দা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ দুনীর্তিবাজ লোভী সাবেক নৌ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নিজ পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ ও হয়রানী মূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তার মা হোসনেয়ারা বেগম তীব্র নিন্দা জানান। প্রয়োজনে তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, প্রতারক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ নগরীর ৪৮/১, মিউনিপ্যাল ট্যাংক রোডের বাসিন্দা মরহুম এম.এ কুদ্দুসের ছেলে। জাল চুক্তির মাধ্যমে পরিবারের সম্পত্তি আত্মসাৎ এর জন্য হোটেল পুষ্প বিলাস পরিচালনা করে। তার বাবার মৃত্যুর পর তার মা বিষয়টি জানতে পেরে এডিশনাল চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ৩৩৪/২৪। উক্ত মামলা তদন্ত শেষে প্রাথমিকভাবে সত্যতা প্রমানীত হওয়ায় আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। বার বার চেষ্টা করার পরও আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করেন। নিরুপায় হয়ে প্রতারক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ হাই কোর্ট থেকে শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জামিন লাভ করে। হাই কোর্ট তাকে স্পষ্টভাবে আদেশ প্রদান করে- ছয় মাসের মধ্যে পরিবারের সাথে সমঝোতা না করলে জামিন আর বর্ধিত করা হবে না। এমতাবস্থায় সে ১০ নভেম্বর’২৪ জামিন পেয়ে নানাবিধ ভয়ঙ্কর কর্মকান্ডের মাধ্যমে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে। জেল হাজতে ৮০দিন থাকা অবস্থায় সে তার ছোট ভাইয়ের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী মিতুর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। মিতুকে দিয়ে বাচ্চা হারানোর মিথ্যা নাটক করে ১৭ নভেম্বর তার খুলনাস্থ বাসায় হানা দেয়। তার ছোট ভাইয়ের অবর্তমানে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের এনে বাসায় চড়াও হয়। তারা বাসার দারোয়ান এবং জালিয়াতি মামলার স্বাক্ষী পিয়াস হোসেনকে বেধড়ক মারপিট করে। দু’জনেই হসপিটালে ভর্তি হয়। পিয়াসকে মারপিট করার সময় দু’ ফ্লাটের চাবি নিয়ে ছোট ভাইয়ের ফ্লাটে জান্নাতি খাতুন মিতুকে ঢুকিয়ে দেয় এবং তার মায়ের ফ্লাটে নিজে প্রবেশ করে দলিল দস্তাবেজ এবং টাকা নিজের স্ত্রীকে নিয়ে লুট করে। অপর পাশের ফ্লাট থেকে মিতু মূল্যবান কাগজ পত্র, চেক বই, ইলেকট্রনিক্স এটিএম কার্ড, ক্যাশ টাকা, স্বণার্লোঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে দারোয়ান বাদি হয়ে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-জিআর-৩০/২৪, তারিখ-৩০/১১/২৪। এ মামলার ১নং আসামী সাবেক নৌ কর্মকতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। এরপরও এই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ থেমে থাকেনি। সে তার বোন এবং বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে (দু’ জনেই উপ সচিব পদ মযার্দায় কর্মরত) মন্ত্রণালয়ে নামে বেনামে দরখাস্ত দিয়ে মিথ্যাচার করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সে মিতুকে ব্যবহার করে আদালতে মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করে। যেটি সিআইডি তদন্ত করছে। অতঃপর এই মামলার কপি বিভিন্ন জায়গায় প্রেরণ করেন। উল্লেখ্য, ঘর বাড়ি লুট করার বিষয়ে তার ছোট ভাই আল মামুন বাদী হয়ে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন, যার নং-১৫৬৪/২৪। এ মামলারও ১নং আসামী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এখানে আরো উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারী’২৫ তার মা হোসনেয়ারা বেগম তার বোন মিনারা নাজমিন খুলনায় গেলে তাদেরকে ঘরে ঢুকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডাইরী করা হয়েছে, যার নং-২১৭৫। অতঃপর সে মামলা তদন্ত থাকাবস্থায় অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আব্দুল্লাহ আল মাসুদের মা অচিরেই তাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষনা করবে বলে জানায়। মুঠো ফোনে নরুল কবির ভুইয়া এবং আব্দুল্লাহ মাসুদের মা হোসনেয়ারা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা আমাদেরকে জানান, আমার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ একজন প্রতারক। আমি তার বিরুদ্ধে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। পরিবারের সম্পদ আত্মসাৎ এর জন্য সে আমার মেয়ে ও মেয়ের জামায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। একটি মামলারও কোন সত্যতা নেই। নরুল কবির ভুইয়া জানান, দোহারে আহসান আলী নামে এই ব্যক্তির কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। মূলত হয়রানির উদ্দেশ্যে দরখাস্তটি মাসুদ লিখেছে। অপহণের মামলাটি মাসুদের পরিচালনাতেই করা হয়েছে। এটি মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে বলে তিনি ও এলাকাবাসী দাবি করেন। এ ব্যপারে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাসুদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠো ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও সে ফোনটি রিসিভ করেনি।



