ইন্টারনেটের টাওয়ার স্থাপনের কথা বলে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যশোরে মামলা

যশোর ব্যুরো ঃ সংঘবদ্ধ চক্র হারুন অর রশিদ নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারণা মূলকভাবে ২৫লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। এ ঘটনায় ৪ প্রতারকের বিরুদ্ধে সোমবার দিবাগত গভীর রাতে প্রতারণা মামলা হয়েছে। মামলাটি করেন, মাগুরা জেলার সদর উপজেলার সত্যপুর গ্রামের মৃত হাবিবর রহমান মোল্লার ছেলে হারুন অর রশিদ। মামলায় আসামী করেন, খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের জাহিদ, খুলনা রুপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের আব্দুর রশিদ হারুণ হাওলাদারের মেয়ে নাযরিন বেগম, যশোর শহরের কাজীপাড়া কাঠালতলা জাহিদ হাসান এর বাড়ির ভাড়াটিয়া সাইফুল ইসলাম ও একই বাড়ির ভাড়াটিয়া মারুফ। মামলায় বাদি উল্লেখ করেন, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দুপুর ১ টার সময় উল্লেখিত আসামীরা মাগুরা সদর উপজেলার যশোর মাগুরা মহাসড়ক সংলগ্ন মাগুরা কাটাখালি বাজার সংলগ্ন বাদির নির্মানাধীন ৪র্থ তলা বিশিষ্ট মার্কেটে নাস্তা করে বাদির মার্কেটের ছাদের উপর লায়ন ইন্টারনেট টাওয়ার বসাবে বলে বাদিকে ২০ লাখ টাকা জামানত এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা জায়গার ভাড়া দেবে বলে আশস্ত করে। বাদি তাদের কথায় বিশ^াস স্থাপন করে উল্লেখিত ব্যক্তিদের তার মার্কেটের ছাদ ভাড়া দিতে রাজী হলে তারা বাদিকে তার যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে আসামীদের ভাড়া অফিস যশোর শহরের কাজীপাড়া কাঠালতলা জনৈক জাহিদ হাসান এর দ্বিতল বাড়ির নীচতলা অফিসে আসতে বলে। তাদের কথায় রাজী হয়ে বাদি ও তার মিস্ত্রি আলী মুনসুরকে সাথে নিয়ে যাবতীয় কাগজপত্রসহ আসামীদের কথা মতো গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১ টার সময় আসামীদের অফিসে এসে কাগজপত্র জমা দেয়। তখন উল্লেখিত আসামীরা বাদিকে আরো জানায় যে,তার বড় ভাই সোনালী ব্যাংকের ডিডি, বর্তমানে সে ঢাকায় আছে। উক্ত ভাইয়ের মাধ্যমে বাদিকে ৪% মুনাফায় ৫০লাখ টাকা হাউজ লোন করে দিবে তবে নগত ২৫লাখ টাকা জামানত হিসেবে দেখাতে হবে। বাদি আসামীদের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে বিশ^াস স্থাপন করে প্রথমে আসামীদেরকে গত ২ জানুয়ারী নগদ ৪ লাখ টাকা দেন। পরবর্তীতে আসামীরা আরো টাকা চাইলে গত ৬ জানুয়ারী আসামীদের ব্যক্তিগত বিকাশ নাম্বারে ৫০ হাজার টাকা এবং একই নাম্বারে নগদ হিসাব নাম্বারে ৫০ হাজার টাকা প্রেরণ করে। পরবর্তীতে আসামীরা বাদিকে আরো জানায় আপনার লোন পাশ হয়ে গেছে চেক হবে দ্রুত আরো নগদ ২০লাখ টাকা দেখাতে হবে বলে টাকা নিয়ে আসামীদের ভাড়া অফিসে আসতে বললে বাদি গত ৮ জানুয়ারী বিকাল ৩ টার সময় আসামীদের কথামতো ভাড়া অফিসে আসলে আসামীরা বাদির নিকট হতে উক্ত টাকা বুঝে নিয়ে বাদিকে সাথে নিয়ে প্রতারক জাহিদ ফুল কিনে আনার জন্য যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ে ফুল কিনতে আসে। দড়াটানা থেকে ২শ’ টাকায় ফুল নিয়ে বাদিকে পাশের চায়ের দোকানে চা খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যায়। দুপুর সাড়ে ৩টার পর বাদিকে চায়ের দোকানে রেখে প্রতারক জাহিদ সামনে দোকান হতে আসার কথা বলে পালিয়ে যায়। পরে বাদি দড়াটানা এলাকাসহ যশোর নিউমার্কেট মোড় ও কাজীপাড়া কাঠালতলা উক্ত ভাড়াটিয়া বাড়িতে যেয়ে উক্ত বাসা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। তখন বাড়ির মালিক জাহিদ এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা আসামীগন বাড়িভাড়া নেওয়ার সময় একটি মাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করে। পরবর্তীতে আসামীদের অনেক খোঁজাখুজি করে কোন সন্ধান করতে পারেনি। পরে জানতে পারেন আসামীরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা প্রতারণার মাধ্যমে বাদির কাছ থেকে নগদ ২৫লাখ টাকা অপরাধজনক বিশ^াসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত করেছে। পরে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।



