আশাশুনিতে প্রগতি ও গ্রাউস সমিতির প্রতারণায় দিশেহারা গ্রাহকরা আজও মেলেনি এর প্রতিকার

প্রতিষ্ঠান দুটোর চেয়ারম্যান প্রাণনাথ দাশ ও তার স্ত্রী ইতি রানী বিশ্বাস
ম্যানেজার ও কর্মীদের টিকিটি ছোঁয়ার উপায় নেই
প্রায় ৫০ কোটি টাকা লাপাত্তা
বাবুল হোসেন, আশাশুনি প্রতিনিধি ঃ প্রগতি সঞ্চয় ও ঋণদান কো- অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ ও গ্রাউস নামের দুইটি প্রতিষ্ঠান একই মালিক/ চেয়ারম্যান প্রাণনাথ দাশ ও তার স্ত্রী ইতি রানী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন তারই বড় ভাই বিশ্বনাথ দাশ । আশাশুনির বুধহাটা শাখা, পাইথালী শাখা সহ সাতক্ষীরার ১০ থেকে ১২ টা শাখার শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৫০(পঞ্চাশ) কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হলেও গ্রাহকরা নিজো আমানতকৃত টাকা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। উক্ত দুটো প্রতিষ্ঠান আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় শাখা অফিস নিয়ে ম্যানেজার ও কর্মীরা নানা চটকদার কথা ও প্রলোভন দেখিয়ে পলিসি খুলতে প্রলুব্ধ করলেও এখন তারা নিজেদেরকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই কুখ্যাত প্রাণনাথ দাশ বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের জেলা নেতাকর্মীদের ছত্র ছায়ায় নানা অপকর্ম সহ সাধারণ অসহায় গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা উক্ত দুইটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেরে দিয়ে এখন দিব্যি প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণ অসহায় গ্রাহকরা ধর্ণা দিয়েও তাদেরকে কিছুই করতে পারছে না।
প্রগতি ও গ্রাউস নামের বুধহাটা শাখার ম্যানেজার তার আপন বড় ভাই বিশ্বনাথ দাশ তার এই অপকর্মের সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। বুধহাটা ইউনিয়নের রামদেবকাটি গ্রামের আনন্দ দাশের স্ত্রী রতœা রানী দাশ ও একই গ্রামের প্রবীর কুমার দাশ কে কর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এলাকায় শত শত মানুষকে ব্যাপক লাভের কথা ও টাকা নিরাপদ নিশ্চয়তার কথা বলে পলিসি খুলতে কাজ করেন, বুধহাটা শাখার ম্যানেজার বিশ্বনাথ দাশ এর অধীনে। তাদের মধ্যে রামদেবকাটি গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্র নাথ দাশের ছেলে রাজ মোহন দাশ একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক। রতœার মাধ্যমে রাজ মোহন ২ লক্ষ টাকার স্থায়ী আমানত করেন। ১৫/২/২২ তাং তিনি এক কালীন ২ লক্ষ টাকা জমা দেন। ৫ বছরে টাকা দ্বিগুন হবে এবং প্রতিমাসে চাইলে ৩০০০ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। লভ্যাংশের টাকা দিয়ে প্রতি মাসে সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন তিনি। একই দিন নগদ ৩০০০ টাকা জমা দিয়ে সঞ্চয় পত্র (নং ৯০৪০৬০০১৮১৩) শুরু করেন। এরপর প্রতি মাসে লভ্যাংশের টাকা ৩০০০ টাকা করে উত্তোলন করে ঐ সঞ্চল আমানতে জমা করতে থাকেন। এভাবে তিনি ১৭ মাসে ৫১ হাজার টাকা জমা করেন। ১৭ মাস পরে চুক্তি ভঙ্গ করে লভ্যাংশ কমিয়ে ২০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়। এরপর ৫ মাসে ২০০০ টাকা করে লভ্যাংশ উঠিয়ে তিনি ১০ হাজার টাকা জমা করেন। এছাড়া প্থৃক একটি সঞ্চয় পত্রে (নং ৯০৪০৬০০১৮০৪) প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে ১৯ মাসে ৯৫০০ টাকা জমা দেন। তার মতন আরও এরকম অসহায় গ্রাহকদের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যান। ভাগ্যের কি নির্মাণ পরিহাস প্রাননাথ দাশ ও তার পরিবার পালিয়ে যেও সেখানে তিনি ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে বন্দি হন, সেখানে দীর্ঘদিন জেল খেটে প্রশাসনের মাধ্যমে (বাংলাদেশে) সাতক্ষীরায় প্রশাসনের হাতে তাকে তুলে দেন ভারত সরকার। কিন্তু বিগত সরকার আওয়ামী লীগের আমলে দেন দরবার করে জেল থেকে জামিন এ মুক্ত হয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই প্রগতি ও গ্রাউস এর বিরুদ্ধে যখন গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তখন সকল গ্রাহক টাকা জমা দেওয়া লেনদেন বন্ধ রাখেন। পরবর্তীতে মালিক পক্ষের আত্মগোপন, অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়া, আদালতে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনার প্রেক্ষিতে গ্রাহকরা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ভিতর দিয়ে সময় গুণছে।
প্রগতি ও গ্রাউসের ম্যানেজার বিশ্বনাথ দাশ ও কর্মী রতœার কাছে রাজ মোহন ধর্না দিতে শুরু করেন। আজ কাল, দ্রুত সময়ে টাকা দেওয়া হবে এমন বলতে বলতে গ্রাহকদের তিনি হয়রানী করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুল হক ডাবলু রতœা ও অপর কর্মী প্রবীরকে নিয়ে গ্রাহকদের সাথে বসেন এবং কমবেশী করে টাকা শোধের ব্যবস্থা করতে পরামর্শ দেন। এরপর প্রদীপ তার অধীনের গ্রাহকদের সাথে সমঝোতায় আসলেও রতœা ও ম্যানেজার বিশ্বনাথ দাশ কোন ব্যবস্থা মেনে নেয়নি। রতœা মহিলা হওয়ায় নানা কারনে গ্রাহকরা জোর করে কিছু বলতে পারেনি। অসহায় গ্রাহকরা তাদের সঞ্চিত লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এব্যাপারে প্রাণনাথ দাশ ও ও তার বড় ভাই বিশ্বনাথ দাশের মোবাইল নম্বরে কল করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। এহেন কার্যকলাপের দায়ে প্রাণনাথ দাশের কি কোন বিচার হবে না, এমন প্রশ্ন সাধারন অসহায় গ্রাহকদের।



