স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুর ৫নং ওয়ার্ডে সেবার মান বেড়েছে

# গতি বেড়েছে নিয়মিত সেবা কার্যক্রমে : ভোগান্তি কমেছে জন্ম নিবন্ধন প্রদানে #
# গত মার্চ মাসের গৃহিত ১২০ টি আবেদনই নিষ্পত্তি করা হয়েছে #

মো. আশিকুর রহমান : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৫নং ওয়ার্ড কার্যালয়ে সেবার মান বেড়েছে। দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের মতো খুলনার মেয়রসহ প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের অপসারন করার পর ওই ওয়ার্ডসমূহে ওয়ার্ডবাসীর সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যেন বেগ পেতে না হয়, তার জন্য কেসিসির প্রশাসকসহ প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহন করেন। কাউন্সিলরদের অপসারনের পর নিয়মিত সেবা প্রদানে কিছুটা বিড়ম্বনা দেখা দেয়। বিশেষ করে দৌলতপুরস্থ ৫নং ওয়ার্ডটিতে সেবা নিতে আসা একাধীক ভুক্তভোগী জন্ম নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকারও হয়েছেন। একই সাথে ওয়ারেশ কায়েম পেতেও বেগ পেতে হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। একাধীক সেবা প্রত্যাশীরা অভিযোগ করেছেন, সামান্য একটি নাগরিক সনদ পত্র নিতেও ১/২ দিন সময় লেগে যেত। সম্প্রতি সময়ে ওই সেবা এখন নিমেষেই প্রদান করা হচ্ছে। ওয়ার্ডটিতে নিয়মিত সেবা হিসাবে নাগরিক সনদ প্রদান, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সেবা, ভোটার সংক্রান্ত সেবা, আয়ের সনদ, ওয়ারেশ কায়েম সেবা, ভূমিহীন সনদ, অবিবাহিত সনদ, একই নামের প্রত্যয়ন, পুনঃ বিবাহ সনদ, বৈদ্যুতিক সেবাসহ বিবিধ সেবা এখন মুহুর্তের মধ্যে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া ওয়ার্ডটি কর্মচারীও এখন নিয়ম মাফিক সকাল-সন্ধ্যা অফিস করছেন। কেসিসির ৫নং ওয়ার্ড কার্যালয়ে বর্তমানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কর্ম তৎপরতা কারনেই এমন সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা একাধীক সেবা গ্রহীতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ডটিতে সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতাদের নিয়মিত সেবা কার্যক্রম অব্যহত আছে। ওই সেবার অংশ হিসাবে গত মার্চ মাসে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নাগরিক সনদ প্রদান করা হয়েছে ৬০ টি, ওয়ারেশ কায়েম ১৫ টি, ভূমিহীন সনদ ৪ টি, পুনঃবিবাহ না করা সনদ ১ টি, ভোটার সংক্রান্ত সনদ পত্র ৩ টি, আয়ের প্রত্যয়ন পত্র ৩ টি, বিধবা প্রত্যয়ন পত্র ৩০ টি, জমির দখলদার প্রত্যয়ন ১ টি, একই নামের প্রত্যয়ন পত্র ২ টি, ৩৫ টি জন্ম নিবন্ধনের আবেদন গ্রহন ও হস্তান্তর, সড়ক বাতির পরিবর্তন, নিয়মিত ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কে ঝাড়– ও ড্রেন সমূহে পেড়িকাদা উত্তোলন, এনজিওর সাথে বৈঠক, টিসিবির কার্ড যাচাই-বাছাই কাজে সহযোগীতাসহ বিবিধ কার্যক্রম। এছাড়া মার্চ মাসের গৃহিত আবেদন ১২০ টি, যার বিপরীতে ১২০ টি আবেদনই নিষ্পত্তি করা । সেবা নিতে আসা ৫নং ওয়ার্ডস্থ ডে-নাইট কলেজ রোড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদ হোসেন জানান, বিগত ৩ মাস ধরে জন্ম নিবন্ধনের আবেদনের জন্য ঘুরতে ঘুরতে দিশেহারা হয়ে পড়ি। সর্বশেষ ওই নিবন্ধনসহ আরো দুটি নিবন্ধন প্রাপ্তির জন্য গত রবিবার জমা দেয়। অবাক ব্যাপার ১ দিন পরে সোমবার আমাকে জন্ম নিবন্ধন নেওয়ার জন্য ওয়ার্ড অফিস থেকে ফোন দেন কর্মকর্তারা। বিগত দিন থেকে বর্তমানে সেবা মান সন্তোষ জনক। এমন সেবা পেয়ে আমি খুবই খুশি। এই ধারাবাহিকতা যেন অব্যহত থাকে। পাবলা বণিক পাড়া এলাকার বাসিন্দা আশিষ সাহা জানান, আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের জন বিগত ৪ মাস ধরে ওয়ার্ড অফিসে ঘুরছি, অবশেষে মুক্তি মিললো। রবিবার মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করি, গতকাল আমাকে ওয়ার্ড অফিস থেকে ফোন করে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান এবং সংগ্রহ করতে বলেন। আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের দায়িত্বজ্ঞান কম ছিল। বর্তমানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা খুবই আন্তরিক। বর্তমানে ওয়ার্ড অফিসের সেবার মান বেড়েছে। পাবলা দত্তবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শাহিনুর বেগম জানান, ছেলের জন্ম নিবন্ধন পেতে ২/৩ দিন সপ্তাহ ধরে ঘুরেছি। গতকাল মেয়ের নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে ওয়ার্ড অফিসে আসি। সাথে সাথে আমার আবেদন করে দেন সংশ্লিষ্টরা। এমন সেবা পেয়ে সত্যই আমি বিষ্মিত। এমন সেবার মান যেন সময় সময় থাকে। এ বিষয়ে ৫নং ওয়ার্ড কার্যালয়ের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক (সহকারি) শেখ আবু জাফর মুন্না জানান, ওয়ার্ডের কোনো সেবা গ্রহীতাদের সেবা নিতে যেন বেগ পেতে না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখাসহ প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছি। বর্তমানে নতুন জন্ম নিবন্ধন ২/৩ দিনের মধ্যে ডেলিভারী দেওয়া চেষ্টা করছি। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সেবা প্রত্যাশীদের ফোন করে ডেকে দেওয়া হচ্ছে। দৌলতপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা সলেমান হোসেন জানান, সোমবার ওয়ার্ড অফিসে যায় নতুন ভোটার প্রত্যয়ন আনার জন্য। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিস্টরা আমাকে সাথে সাথে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করে। বিগত দিনে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বর্তমানে সেবার মান ভালো। এ বিষয়ে ৫নং ওয়ার্ড কার্যালয়ের সচিব (সংরক্ষিত) শেখ ইমতিয়াজ হাসান জানান, কাউন্সিলররা অপসারিত হওয়ার পর সেবা দিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই এই জটিলতা অবসান হতে শুরু করে। বর্তমানে আমাদের ওয়ার্ডটিতে নিয়মিত সেবা হিসাবে নাগরিক সনদ প্রদান, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সেবাসহ বিবিধ সেবা এখন মুহুর্তের মধ্যে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছি। ওই ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসের গৃহিত আবেদন পড়ে ১২০টি, যার বিপরীতে ১২০ টি আবেদনই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আশাবাদি সেবা এই যথাযথ ভাবে ধরে রাখবো। এ বিষয়ে কেসিসি ৫নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন জানান, ওয়ার্ডটিতে দায়িত্ব নেওয়ার আগে সেবা মান নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের শেষ ছিল না, বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন প্রাপ্তি নিয়ে। কর্মচারীদের নিয়মানুবর্তীতাসহ বিবিধ বিষয় নিয়ে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই সকল সমস্যা সমাধান করা চেষ্টা অব্যহত রেখেছি। সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা সেটা ওয়ার্ডের বাসিন্দারাই বলবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button