পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হামলা করানো ও লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ হামলা লুটপাট জখম করার অভিযোগ উঠেছে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (১২ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবের ভুক্তভোগী আসাদুল শেখ ও তার পরিবারের লোকজন এ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আসাদুল শেখের বাড়ি দাকোপ উপজেলার নলিয়ান অঞ্চলে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আসাদুল শেখ বলেন, গত ৫ই এপ্রিল রাত আনুমানিক ২ টায় আমার বাড়ী, আমার ও আমার পরিবারের উপর হামলা হয়। স্থানীয় মোঃ আজিবর সরদারের নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন ডাকাত দেশিও অস্ত্র যেমন দাঁ, কুড়াল, শাপল, চাকু ও লোহার রডসহ আমাদের আক্রমন করে। ডাকাতরা তাদের হাতে থাকা রশি দিয়ে ঘুম থাকা অবস্থায় ঘরে ঢুকে আমার ভাই মোস্তাকিনকে বেধে ফেলে। তার গলায় দাঁ ধরে বলে কোন আওয়াজ করবি না। আওয়াজ করলে মেরে ফেলব। এমতাবস্থায় আমার ছেলে নাজমুল শেখ (১২) ঘুম থেকে উঠে এ অবস্থা দেখে তাদের পা ধরে বলতে থাকে আমার কাকাকে আপনারা কিছু বলবেন না। ডাকাতরা তাকে দাবর দিলে সে ভয়ে বিলের মধ্যে দৌড়ে ঘেরে গিয়ে আমাকে ডেকে নিয়ে আসে। আমি বাড়ীতে আসার সাথে সাথে ডাকাতরা আমাকে এলোপাতারি মারধর শুরু করে। তারা আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড দিয়ে পিটায়। ডাকাতরা আমার বাম পায়ের হাটুর নিচে দা দিয়ে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। বুকের ডান-বাম পাশে, বগোলের নিচে, বাম হাতের কোনুই নিচে রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় তারা বলে যে কোন আওয়াজ করলে জানে মেরে ফেলব। এরপর সকলে একত্র হয়ে মেঝে পাকা টিনের ছাউনি বিশিষ্ট দুটি ঘর ভেঙ্গে মাটিতে মিসিয়ে দেয়। ঘরের কিছু টিন তারা পাশের ডোবায় পানিতে ফেলে দেয়। ডাকাতরা ঘরের মধ্যে থাকা, থালা, বাসন, হাড়ি, করাই, চেহার-টেবিল, সোকেজ, আলনা ইত্যাদি ভাংচুর করে। তারা ঘরে থাকা মালামাল যেমন- ৩টি ফ্যান, ২ ভড়ি ওজনের স্বর্ণ অলংকর, ১টি ট্রাংক, ধান, নগদ ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা, ৪টি ছাগল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। আমি পরদিন সকাল বেলা দাকোপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসার জন্য ভর্তী হতে গেলে আসামীরা সেখানেও আমাকে আক্রমন করে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ হামলার মূল নেতৃত্বদানকারী খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত ইন্সপেক্টর জালাল সরদার। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী নারগিস বেগম দাকোপ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করতে যায়। থানার ওসিকে ঘটনা খুলে বললে তিনি মামলা করতে বলেন। আমার স্ত্রী অভিযোগ দায়ের করেন। ওসি এস আই সাইমুনকে দায়িত্ত দেন। কিন্তু তারা মামলা না নিয়ে তাদের মত করে এজাহার লিখে প্রকৃত আসামীদের নাম বাদ দিয়ে ও ডাকাতের ঘটনা উল্লেখ না করে চুরির ঘটনা বর্ণনা করে একটি মামলা রুজু করেছে। উক্ত মামলা নাম্বার-৪, তারিখ ০৬/০৪/২০২৫ ইং, ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৩৮০/৪২৭/৫০৬ দঃ বিঃ। কিন্তু থানায় রুজুকৃত মামলার ঘটনার সাথে প্রকৃত ঘটনার কোন মিল নাই।
আসাদুল শেখ বলেব, খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত ইন্সপেক্টর জালাল সরদার মামলাটি যাতে যথাযথ ভাবে রুজু না হয় এবং আসামীরা যাতে গ্রেফতার হয় সেজন্য বিভিন্ন স্থানে তদবির করছেন। তিনি এখনও ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে আমাদের এখনও নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি আকর্ষন করে তিনি বলেন, এ ঘটনার পেছনে নেতৃত্বদানকারী খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত ইন্সপেক্টর জালাল সরদারের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক সঠিক বিচার করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ রইল যে আমার বাড়ীতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতি মামলা রুজু করাসহ আসামীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির আওয়াতায় আনা হোক।



