খুলনা রানা রিসোর্টে অসামাজিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বটিয়াঘাটা রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কে অসামাজিক কর্মকান্ডসহ নানা অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনগণ। ১৮ এপ্রিল শুক্রবার বিকাল ৪:০০ টায় রানা রিসোর্টের গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রিসোর্টটির সাথে জোগসাজসের অভিযোগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবি জানান এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী বলেন, এই রিসোর্টে রাতভর ডিজে – পার্টি, নারীদের নিয়ে অশ্লীল কার্যক্রম ও মদের আসর বসে। এরা আমাদের এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। ১ থেকে ২ ঘন্টা রুমের ভাড়া বাবদ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বিনোদন প্রেমীদের নিকট থেকে চড়া মূল্যে নেওয়া হয় প্রবেশ মূল্য। এ বিষয়ে স্থানীয় জনতা মোহাম্মদ আরমান আলি বলেন, রানা রিসোর্টের মালিক দীর্ঘদিন ধরে এখানে অনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। রিসোর্টের সামনে অবৈধভাবে বালু ভরাট করে দখল করে রেখেছে নদীর কুল। সেখানে প্রবেশের জন্য নেওয়া হচ্ছে টাকা। প্রশাসনকে একাধিকবার বলা সত্বেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে আজিম শেখ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রানা রিসোর্ট এর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী অনেক অভিযোগ করেছে। আমরা স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গত দুদিন পূর্বে রানা রিসোর্ট পরিদর্শন করি। ভিতরে গিয়ে আমরা বেশ কয়েকটি মদের বোতল দেখতে পাই। এছাড়া অনৈতিক কর্মকান্ডের নমুনা পাই। কিছুদিন পূর্বে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট জানতে পারি, এই রিসোর্টে ম্যাজিক লকার রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ও টাকা এই লকারের ভিতরে রাখলে পেছন থেকে থেকে চুরি করে নেয়। যেটা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানালে কোন দায় নেয় না। এছাড়া নানা অসামাজিক কর্মকা-ের অভিযোগ পাওয়ায় প্রশাসনের সমন্বয়ে এলাকাবাসী রিসোর্টটির গেটে তালা মেরে দেয়। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়দানকারী তানভীর তামিম ওমর হামজা নামক দুজন শিক্ষার্থী রানা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আর্থিক লেনদেন এর মাধ্যমে জোগসাজস করে। এই দুই শিক্ষার্থী বটিয়াঘাটার ইটের ভাটা, মাছের ঘের ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে । এ সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা চাঁদাবাজি করে তাদেরকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানান এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলশিক্ষক, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও নারী প্রতিনিধি। বক্তারা রিসোর্টটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



