৩১ অক্টোবরের ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে শিববাড়ি মোড়ের পথসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত হবে : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# খুলনা মহানগরী জামায়াতের জরুরী রুকন সমাবেশ #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, শান্তিপূর্ণ লংমার্চকে বানচাল করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে এবং ভবিষ্যতেও হতে পারে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা চায় না এদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাক, চায় না এদেশে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাইÑখুলনার মাটি থেকে যে আন্দোলনের সূচনা হবে, তা কোনো অপশক্তির রক্তচক্ষু বা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না। তিনি বলেন, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে আমাদের এগোতে হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছেÑ”আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুশ্চিন্তা করো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।” আমাদের ঈমানী শক্তি এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তিনি মেধা, শ্রম, সময় এবং সর্বাত্মক সামর্থ্য দিয়ে ৩১ অক্টোবরের ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে খুলনার বাবরী চত্বর (শিববাড়ি মোড়) জনসমুদ্রে পরিণত করতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর জরুরী রুকন সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চল জামায়াতের সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, খুলনা জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাওসুল আযম হাদী, মহানগরী অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস ও মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মহানগরী যুব বিভাগের সভাপতি মুকারম বিল্লাহ, তারবিয়াত বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, দাওয়া ও প্রকাশনা সেক্রেটারি মাওলানা শাহারুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, পেশাজীবী বিভাগীয় সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মোস্তফা আল মুজাহিদ ও আশরাফুল আলম, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহীদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মনোয়ার আনসারী, ব্যবসায়ী থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, হাফেজ ইমরান খালিদ, খুলনা সদর থানা সেক্রেটারি আব্দুস সালাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খালিশপুর থানা আব্দুল আউয়াল, দৌলতপুর থানা মাওলানা মহিউদ্দীন, আড়ংঘাটা থানা সেক্রেটারি শেখ ফিরোজ আহমেদ তুহিন, ব্যবসায়ী থানা সেক্রেটারি ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম আজিজুর রহমান স্বপন প্রমুখ ।
মহানগরী আমীর মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী এদেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন। আর আপনারাÑযারা এই সংগঠনের রুকন, আপনারা হলেন এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। সাধারণ কর্মী এবং জনগণের মাঝে যখন হতাশা বা দ্বিধা কাজ করে, তখন একজন রুকনই আলোর দিশারী হিসেবে পথ দেখান। রুকনদের ত্যাগ, কুরবানি, ইখলাস এবং সুশৃঙ্খল কর্মতৎপরতার ওপরই সংগঠনের সাফল্য নির্ভর করে।
তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর রুকনরা কখনো পিছু হটেনি। ফাঁসির মঞ্চ থেকে শুরু করে জেল-জুলুম, অত্যাচার ও নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েও আপনারা দ্বীনের ওপর অবিচল থেকেছেন। আজকের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও আমাদের সেই আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে। ৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে সফল করার গুরুদায়িত্ব আজ আপনাদের কাঁধে এসে বর্তেছে। খুলনা মহানগরীকে এই আন্দোলনের একটি দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করতে হবে।
মহানগরী আমীর বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে এদেশের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল ফ্যাসিবাদী শাসন। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটলেও দেশবিরোধী শক্তিগুলো এখনও বসে নেই। তারা নানা কৌশলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষার্থে সমমনা ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা দলের সংকীর্ণ স্বার্থের জন্য নয়; বরং এটি এদেশের ১৭ কোটি মানুষের মুক্তি, ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ এবং ফ্যাসিবাদের শেকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলার জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। আর এই প্ল্যাটফর্মের ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই লংমার্চ কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক মিছিল নয়, এটি হলো জনগণের অধিকার আদায়ের এক অপ্রতিরোধ্য অভিযাত্রা।
তিনি বলেন, খুলনা হচ্ছে বীর সংগ্রামীদের উর্বর ভূমি। ঐতিহাসিকভাবেই এই অঞ্চলের মানুষ যেকোনো অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। তাই খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীকে এই লংমার্চ বাস্তবায়নে সমগ্র দেশের সামনে একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আজ থেকে লংমার্চের দিন পর্যন্ত আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজের জন্য নির্ধারণ করতে হবে। খুলনা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি পাড়া-মহল্লা এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে আমাদের এই লংমার্চের বার্তা ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান পৌঁছে দিতে হবে।



