কুয়েটের সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনার আহবান কর্তৃপক্ষের

# আলোচনা প্রত্যাখান করে অনশনে শিক্ষার্থীরা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) চলমান সব সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক ও পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। স্টুডেন্ট ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার বলেন, ‘ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা তাদের নিয়ে বসেছি। তারা তাদের সমস্যার জায়গাগুলো আমাদের জানাবে। তাদের সব সমস্যা যাতে দ্রুত সমাধান করা যায় সেই লক্ষ্যে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ছাত্ররা আমাদের সন্তানের মতো। তারা কোনও অন্যায় বা ভুল করতে পারে। এমনকি আমরাও ভুলের ঊর্ধ্বে নই। ‘শিক্ষক হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার সব সময় শিক্ষার্থী। তাদের নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি ছাত্রের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আমি বদ্ধপরিকর। আমি একটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাই, ছাত্রদের কোনও বিষয়ে কোনও সমস্যা হলে তার সমাধান করা আমার অন্যতম ও প্রধান দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩৭ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বহিষ্কার কিন্তু চূড়ান্ত বহিষ্কার নয়। এখানে ছাত্রশৃঙ্খলা কমিটি বসবে। যেসব ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। নিরপরাধ কেউ যেন কোনও প্রকার শাস্তির মুখোমুখি না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) ও শিক্ষকরা। এদিকে শিক্ষকদের আহবানে সাড়া না দিয়ে আমরণ অনশনে বসে পড়লেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুয়েট) শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেল তিনটা থেকে তারা কুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিষদ চত্বরে অনশন শুরু করেন। কুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের একদফা দাবিতে তারা এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। তবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কুয়েট শিক্ষকরাও তাদের সামনে বসে অনুরোধ করে বলার চেষ্টা করছেন ‘যা কিছু হোক আলোচনার টেবিলে বসে ঠিক করা হবে। তোমরা অনশন প্রত্যাহার করো’। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে এখনও অনঢ় রয়েছেন। অন্যদিকে কুয়েট উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে নানা কর্মসূচী পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মৌন মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এক দফা দাবির পক্ষে শিক্ষার্থীরা বলছেন, কুয়েট ভিসি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, ভিসি ব্যর্থতার দায় নিতে অস্বীকার করেছেন, ভিসি পানির লাইন-ইন্টারনেট অফ করে দিয়ে হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়েছে, ভিসি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ইন্ধন দিয়েছেন, ভিসি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেছে। সেহেতু আমরা ছয় দফা থেকে এক দফা দাবি ঘোষণা করেছি। এই ভিসিকে অপসারণ করা এখন আমাদের একমাত্র দাবি। একই সাথে নতুন ভিসির অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। অন্যদিকে ভিসির পাশে দাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উপাচার্যকে হয়রানি করছে দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। কুয়েটে সংঘটিত অনাকাঙ্খিত ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর সঙ্গে মতবিনিময় সভাও করেছেন তারা। শিক্ষকরা বলেছেন, বর্তমান সময়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য কিছু মহল তৎপর রয়েছে। এ সকল দুষ্কৃতিকারীদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন তারা।



