বাগেরহাটে অতিরিক্ত মুল্য-ওজনে কম দেওয়ায় মাংসের দোকানে ও মাছের আড়তে জরিমানা

# সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ভোক্তার অভিযান #
আজাদুল হক, বাগেরহাট ঃ সম্প্রতি সময়ে কৃষকের গরু চুরি খামারিদের গরু লুটে আলোচিত বাগেরহাটে এবার নোংরা পরিবেশে গরু জবাই, ওজনে কম দেওয়া ও বেশি দামে মাংস বিক্রি করার অপরাধে এক মালিকের ৩ টি দোকানকে আর্থিক জরিমানা করেছে ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তর। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের আলোচিত কসাই আব্দুস সালামের মাংসের দোকানে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই অভিযান পরিচালনা করেন। একই মালিকের ৩টি দোকানে একই অভিযোগে নগদ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে সালাম কসাই গরু ক্রয়ের রশিদ দেখাতে পারেনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত দামে গরু-খাসির মাংস বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। পার্শবর্তী জেলা-উপজেলা থেকে শহরের প্রধান এই বাজারে গরু খাসির মাংস বিক্রি হয়ে আসছে কেজিতে ৬০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দরে। অভিযানের সময় ক্রেতা সাধারণ ও বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা মাংস বিক্রিতে আব্দুস সালামের সিন্ডিকেট, নোংরা পরিবেশে গরু জবাই, নদীতে বর্জ্য ফেলা এবং নদী দখল করে গরু ও চামড়া রাখার শেড করার অভিযোগ করেন। সরেজমিনে নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গরু জবাই, নদীতে জবাইকৃত পশুর রক্ত ও বর্জ্য ফেলা, নদী দখল করে শেড নির্মাণ করার বিষয়টি দেখতে পান অভিযানে যাওয়া সেনাবাহিনী ও ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা। এ সময় পৌরসভার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদেরও ডেকে আনেন অভিযানকারীরা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাগেরহাট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানা জানান, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সদর বাজারের মাংসের দোকানগুলো আমরা পরিদর্শন করি। অধিকাংশ দোকানের ওজন পরিমাপক গুলোই মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল। ওজনে কারচুপির একটা সম্ভাবনা এখানে রয়েছে। এ জন্য তিনিটি দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে। অধিকাংশ দোকানে গরুর মাসের দাম বেশি। এ জন্য জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাইকে নিয়ে একটি সভা করে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। অভিযানকালে বেশি কিছু বিষয় আমারা দেখেছি, এখানে পৌরসভার লোক ছিল, তাদের কেও আমরা অনুরোধ করেছি, এগুলো অনেক বড় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কোথায় তারা গরু জবাই করবে, অনেকগুলো ভ্রাম্যমাণ দোকান এসব বিষয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিবেন। সেনা সদস্য সমন্বয়ে ভোক্তা অধিকার সংরকক্ষনের এ টিম একইদিন সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে পাগলপীর নামের একটি মাছের আড়তের প্রোপাইটার রুবেল হোসেন কে ওজনে কম দেওয়া ও মাছ তাজা দেখাতে রং দেওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় মাছের আড়তদারদের বিএসটিআই অনুমোদিত ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়।



