ব্যাটারী রিকশা সংগ্রাম পরিষদ খালিশপুর থানা কমিটির সমাবেশ

# মহান মে দিবস উপলক্ষে
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বন্ধ বা উচ্ছেদ নয়, নীতিমালা চূড়ান্ত ও আধুনিকায়ন করে ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক আল কাদেরী জয়সহ আটককৃত নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ খালিশপুর থানা শাখার উদ্যোগে গতকাল ১মে বিকাল ৫টায় বিআইডিসি রোডে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদ খালিশপুর থানা কমিটির সভাপতি ইউনুস আহমেদ মাসুদ। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদ খুলনা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব জনার্দন দত্ত নান্টু, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল করিম, সংগ্রাম পরিষদ খুলনা মহানগর কমিটির কোষাধ্যক্ষ কোহিনুর আক্তার কনা, মহানগর কমিটির সদস্য আব্দুল আলিম, জাহাঙ্গীর শেখ, সাইফুল ইসলাম, খালিশপুর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন শেখ, সহ সভাপতি মুকুল তালুকদার, ফিরোজ মোল্লা, ফিরোজ হাওলাদার, প্রচার সম্পাদক নূর আলম, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সুরোজ শেখ, হালিম, মনিরুজ্জামান, জহুরুল ইসলাম, ইলিয়াস শেখ প্রমুখ। সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, মহান মে দিবসের মূল স্লোগান বা আহ্বান ছিল ন্যায্য মজুরি, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা, সর্বত্র ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, বিশ্রামের অধিকার ও সর্বোপরি শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্তি লাভ। কিন্ত আজ ১৩৯তম মহান মে দিবসেও বাংলাদেশের শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক মর্যাদা ও সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। ৭ কোটি ৪০ লাখ শ্রম শক্তির প্রায় ৮৫ ভাগ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজের সাথে যুক্ত। যাদের নির্দিষ্ট কোনো কর্মঘণ্টা নেই, নিয়োগ পত্র-পরিচয় পত্র নেই। বেকারের দীর্ঘ মিছিলের বিপরীতে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সাথে সরাসরি ৬০ লাখ মানুষ যুক্ত। যাদের আয়ের উপর প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। শ্রম শক্তি ও জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করে ইজিবাইক, রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের দাবি এখনও উপেক্ষিত। এই যানবাহন কার্বন নিঃসরন করে না ফলে পরিবেশ বান্ধব। শব্দ ও বায়ু দূষণ করে না, আরামদায়ক, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। সারা বিশ্বে ইলেকট্রিক বা ব্যাটারিচালিত যানবাহন পরিবহন সেক্টরকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিন্ত বাংলাদেশে এই যানবাহনের নীতিমালা তৈরি করতে গত ১২ বছর সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলন করছে। দাবি পূরণ না করে উল্টো চট্টগ্রাম মহানগরে ব্যাটারিচালিত যানবাহন জব্দ ও চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল ও নীতিমালা চূড়ান্ত ও আধুনিকায়ন করে গাড়ির নিবন্ধন ও চালকদর লাইসেন্স চাইতে গিয়ে কুখ্যাত বিশেষ ক্ষমতা আইনে সংগ্রাম পরিষদ নেতা আল কাদেরী জয়সহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। যা জুলাই আন্দোলনের চেতনার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে, ডিজিটাইলেজশনের এই যুগে অমানবিক পরিশ্রমের কাজ প্যাডেলচালিত রিকশাকে আধুনিকায়ন করে যারা গতি বাড়িয়েছেন, নতুন আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। সেই সংগ্রামের নেতাদের স্বাগত না জানিয়ে কারাগারে পাঠানো বাংলাদেশের কোন মানুষ মেনে নিতে পারে না। অবিলম্বে সংগ্রাম পরিষদের নেতা আল কাদেরী জয়সহ আটককৃত ৩ নেতার নিঃশর্ত মুক্তি ও নীতিমালা চূড়ান্ত ও আধুনিকায়ন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স, রুট পারমিট ও চালকদের প্রশিক্ষণ এবং সড়ক মহাসড়কে স্বল্পগতিড ও লোকাল যানবাহনের জন্য পৃথক লেন/সার্ভিস রোড নির্মাণসহ সংগ্রাম পরিষদের ৮ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।



